ঢাকা,  রোববার   ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

[ রাজধানী ]

সিসিটিভিতে চিন্তামুক্ত বস্তিবাসী, আতঙ্কে অপরাধীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:২১, ১৯ মার্চ ২০২৩
সিসিটিভিতে চিন্তামুক্ত বস্তিবাসী, আতঙ্কে অপরাধীরা
ছবি: সংগৃহীত

‘আগুন লাগাই বস্তির সবচেয়ে বড় সমস্যা। কখনো কখনো কেউ আগুন লাগিয়ে দেয়। আবার শর্টসার্কিট বা অন্য কারণেও লাগে আগুন। তবে এখন থেকে আর আগুন লাগার সুযোগ নাই। এখন থেকে অপরাধীরাই থাকবে আতঙ্কে। সিসিটিভি লাগানোর কারণে আমাদের আর চিন্তা নাই।’

এভাবেই রাজধানীর মিরপুরের কল্যাণপুর বস্তির বাসিন্দা রিকশা গ্যারেজের মালিক জহিরুল ইসলাম নিজেদের টাকায় কেনা সিসিটিভির সুফলের কথা জানালেন। শনিবার রাজধানীর কল্যাণপুর বস্তি এলাকায় বস্তিবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বস্তিবাসীরা এখন নির্ভার সময় কাটাচ্ছেন। 

জানা গেছে, এক মাসের কিছু সময় আগে থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় বস্তিবাসীরা নিজেদের নিরাপত্তার তাগিদে নিজেদের টাকায় বিভিন্ন সড়কে সিসিটিভি লাগায়। এতে তাদের খরচ হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।

রাত-দিন সিসিটিভি ক্যামেরায় তীক্ষ্ণ দৃষ্টি থাকে তাদের। কেউ যদি কোনও অপরাধ করে পালিয়ে যায়, সিসিটিভির রেকর্ড থেকে অপরাধীকে শনাক্ত করা হবে। এরপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সহায়তায় অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হবে। 

এলাকায় চুরি, ছিনতাই, মাদক, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা এমনিতেই আগে বেশি ছিল। কিন্তু এমন উদ্যোগের ফলে এখন অনেকটাই কমেছে অপরাধের মাত্রা।

স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি কিংবা কাউন্সিলর, কারো সহায়তা ছাড়াই এমন ব্যতীক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে রাজধানীর মিরপুরের কল্যাণপুর বস্তিবাসী। সিসিটিভি কেনার সিদ্ধান্তের প্রথম দিনেই ওঠে প্রায় ৬০ হাজার টাকা। পরে সিসিটিভি কিনে আনলে এগুলো স্থাপনে সহযোগিতা করেন মিরপুর মডেল থানার পুলিশ সদস্যরা।

পুলিশ বলছে, সিসিটিভি থাকার কারণে কোনো অপরাধী তার অপরাধ অস্বীকার করতে পারবে না। এছাড়া কোনো নিরীহ মানুষও যেন হয়রানি শিকার না হয়, সেটাও নিশ্চিত হবে এ উদ্যোগের মাধ্যমে।

বস্তিবাসীরা বলছেন, সিসিটিভি ফুটেজ লাগানোর পর থেকে অনেক ক্ষেত্রেই মিলছে এর সুফল। বস্তি এলাকার আশপাশে ছিনতাই, মাদক বাণিজ্য, ইভটিজিং কিংবা কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ছিল অনেক বেশি। এখন অনেকটাই কমে এসেছে।

কল্যাণপুর বাইতুল নূর জামে মসজিদ ও মাদরাসা কমপ্লেক্সে বসানো হয়েছে এই সিসিটিভির মনিটর। সেখান থেকেই নজরদারি করা হচ্ছে। পালা করে ডিউটি দিচ্ছেন স্থানীয় তরুণরা। ৯টি সিসিটিভির আওতায় এসেছে ১, ২, ৩, ৪, ৫ ও ৭ নম্বর বস্তির সড়কগুলো। বাকিগুলোতে সিসিটিভি লাগানোর জন্য টাকা সংগ্রহের কাজ চলছে এখন।

বস্তিবাসীরা বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি বোঝাতে পেরেছেন। এরপরই এক উঠোন বৈঠকে সিসিটিভি লাগানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এত টাকা কোথা থেকে আসবে, যখন বিষয়টি আলোচনা হয়, তখন যে যার সাধ্যমতো টাকা দিতে রাজি হয়ে যায়।

কল্যাণপুর বস্তি এলাকায় ভাঙারি ব্যবসায়ী আনজু বলেন, বস্তি এলাকায় যেসব মাদকের স্পট রয়েছে, সিসিটিভি লাগানোর পর থেকে সেসব এলাকায় তৎপরতা অনেকটাই কমে গেছে। সিসিটিভির কারণে ছিনতাইও কমেছে। সিসিটিভি লাগানোর পর অপরাধীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

মিরপুর জোনের সিনিয়র সরকারী পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ মুহতারিম বলেন, কল্যাণপুর বস্তিতে সিসিটিভি লাগানো রাজধানীর অন্যান্য বস্তির জন্য উদাহরণ। কল্যাণপুর বস্তির মতো অন্য যেসব বস্তি রয়েছে, সেসব বস্তির বাসিন্দারা যদি নিজেদের নিরাপত্তায় এগিয়ে আসে, তাহলে অনেক ধরনের অপরাধ কমে আসবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেডআর
ট্যাগ: স্বস্তি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!