নিহত চারজনের মধ্যে শিশু হোসাইনের বাবা-মাও রয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে জমে থাকা পানিতে শিশুটিকে দেখতে পেয়ে উদ্ধারের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়।
শিশুটি হোসাইনকে উদ্ধার করা তৃতীয় লিঙ্গের বৃষ্টি জানান, শিশুটি অনেক কান্নাকাটি করেছে।
.png)
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) বাচ্চু মিয়া জানান, মিরপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে চারজন নিহত হওয়ার ঘটনাস্থল থেকেই শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছিল। বর্তমানে শিশুটি সুস্থ আছে। চিকিৎসা শেষে ভোর ৪টার দিকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
যেভাবে বেঁচে গেল শিশুটি
স্থানীয়রা বলছেন, অনেকটা অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছে শিশু হোসাইন। তারা বলছেন মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে গেলেও প্রাণে রক্ষা পায় শিশুটি।
আমেনা বেগম নামে এক নারী শুক্রবার সকালে হোসাইনকে নিয়ে মিরপুর মডেল থানায় যান। সেখানে তিনি শিশু হোসাইনের বেঁচে যাওয়া বর্ণনা দিয়ে বলেন, হোসাইনের মা পানিতে পড়ে গেলে হোসাইনও কোল থেকে ছিটকে পড়ে যায়। এ সময় অনিক সঙ্গে সঙ্গে এসে হোসাইনকে পানি থেকে তুলে আমার কোলে দেয়। আমি তাকে আমার বাসায় নিয়ে প্রথমে শরীরে গরম তেল দেই। এরপর তাকে নিয়ে যাই প্রথমে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
আমেনা বেগম বলেন, ডাক্তার হোসাইনকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। রাতেই তাকে নিয়ে যাই। চিকিৎসার পর সকালে ডাক্তার জানান, হোসাইন এখন সুস্থ, তাকে বাসায় নিয়ে যাওয়ার জন্য। সেখান থেকে হোসাইনকে নিয়ে থানায় আসি।
তিনি আরো বলেন, অনিকের মাধ্যমে আল্লাহ হোসাইনকে বাঁচিয়েছেন। তার মা-বাবা ও বোন এবং অনিক মারা গেছে, তার তো বাঁচার কথা ছিল না। এখন হোসাইনকে কোলে নেয়ার বা দেখাশোনার লোক নেই। হোসাইনকে আমি আপাতত দেখাশোনা করছি৷ আমি হোসাইনকে তার নানা ও দাদার কাছে বুঝিয়ে দেব।
মিরপুর থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন জানান, উদ্ধার হওয়া শিশু হোসাইন বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে নিহত মুক্তা ও মিজান দম্পতির সন্তান।