কানাডায় নূর ইসলামের সন্দেহজনক লেনদেন, ব্যবস্থা নেই
কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নূর ইসলাম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের কানাডার আর্থিক লেনদেন নিয়ে সন্দেহজনক তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এসব তথ্য ও নথি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো মামলা বা দৃশ্যমান আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) ও আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটের অনুসন্ধানে শেখ নূর ইসলাম ও তাঁর পরিবারের কানাডায় থাকা সম্পদ, ব্যবসা ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য উঠে এসেছে। প্রায় এক দশকের ১৬৩টি আর্থিক নথি পর্যালোচনা করে একাধিক সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
.png)
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নূর ইসলাম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন হিসাবে প্রায় ৫০ লাখ কানাডিয়ান ডলারের লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সন্দেহজনক লেনদেন, বড় অঙ্কের নগদ লেনদেন এবং আন্তর্জাতিক অর্থ স্থানান্তরের তথ্য রয়েছে।
অনুসন্ধানে কানাডায় ‘শেখ নূর ম্যানেজমেন্ট ইনকর্পোরেটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের তথ্যও পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ থেকে পরবর্তী চার বছরে সিঙ্গাপুরের একটি রেমিট্যান্স প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পণ্য আমদানির বিল হিসেবে ওই কোম্পানির হিসাবে প্রায় ২২ লাখ কানাডিয়ান ডলার পাঠানো হয়। বাংলাদেশের রংকন হোম সলিউশনস লিমিটেড থেকে এসব অর্থ পাঠানো হলেও এর বিপরীতে কানাডা থেকে বাংলাদেশে পণ্য আসার তথ্য পাওয়া যায়নি বলে অনুসন্ধান প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া নূর ইসলাম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে কানাডায় একাধিক কোম্পানি, ব্যাংক হিসাব ও সম্পদের তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে এনবিআরের সংশ্লিষ্ট ইউনিট। এসব সম্পদ ও বিদেশি নাগরিকত্বের তথ্য বাংলাদেশের কর নথিতে যথাযথভাবে উল্লেখ করা হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকার গুলশানে নূর ইসলামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেডের চারটি গুদাম সিলগালা করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও বিশেষায়িত বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত একটি দল। শুল্কমুক্ত পণ্য অনুমোদিত গুদামের বাইরে সংরক্ষণের অভিযোগে এ অভিযান চালানো হয়। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।
তবে শেখ নূর ইসলাম তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অর্থপাচারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এক প্রতিবাদলিপিতে তিনি দাবি করেন, সালমান মুক্তাদিরকে বিয়ে করার পর মেয়ের সঙ্গে তাঁর আর কোনো সম্পর্ক নেই। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকেও সাম্প্রতিক প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলা হয়েছে।
অর্থনীতিবিদ শাহ মো. আহসান হাবিব বলেন, কোনো ব্যক্তি অবৈধভাবে বা ঘোষণা ছাড়া বিদেশে অর্থ নিলে এবং তার পক্ষে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। মানি লন্ডারিংয়ের মতো অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলকভাবে কাজ করা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে নূর ইসলাম ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে ওঠা অর্থপাচার বা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর অনুসন্ধান ও পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের মাধ্যমেই অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারিত হবে।