দেশে এলো টেটনের এআইভিত্তিক পোর্টেবল ইসিজি যন্ত্র ‘মাইইসিজিএআই
বাংলাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ১২-লিড পোর্টেবল ইসিজি যন্ত্র ‘মাইইসিজিএআই প্রো’ এনেছে টেটন প্রাইভেট লিমিটেড। যন্ত্রটি ব্যবহার করে ঘরে বা প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য জায়গায় হৃদ্যন্ত্রের বৈদ্যুতিক কার্যক্রমের রেকর্ড বা ইসিজি করা যাবে।
প্রায় ৩০ সেকেন্ড রেকর্ড করার পর তৈরি করা যাবে ডিজিটাল পিডিএফ প্রতিবেদন, যা প্রয়োজনে চিকিৎসকের সঙ্গে শেয়ার করা যাবে।
রোববার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীর শেরাটন ঢাকা হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পোর্টেবল এই ইসিজি ডিভাইসটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের ডিন অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের সভাপতি অধ্যাপক (ডা.) খন্দকার আবদুল আওয়াল রিজভী। অনুষ্ঠানে টেটনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. মিজান রহমান, বিনিয়োগকারী, চিকিৎসক, ব্যবসায়িক অংশীদার ও প্রযুক্তি খাতের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে টেটনের সিইও ড. মিজান রহমান বলেন, প্রযুক্তি তখনই কার্যকর হয়, যখন তা মানুষের বাস্তব জীবনের প্রয়োজন মেটাতে সাহায্য করে। এই ভাবনা থেকেই স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি আরও সহজলভ্য করার উদ্যোগ নিয়েছে টেটন।
পোর্টেবল যন্ত্রটির মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা প্রয়োজনের সময় ইসিজি রেকর্ড করে প্রতিবেদন সংরক্ষণ ও চিকিৎসকের সঙ্গে শেয়ার করতে পারবেন। এতে ইসিজি পরীক্ষার তথ্য চিকিৎসকের কাছে পৌঁছানো সহজ হতে পারে। তবে প্রতিবেদন বিশ্লেষণ এবং পরবর্তী চিকিৎসার সিদ্ধান্তের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে যন্ত্রটির কার্যপদ্ধতি ও পণ্য উন্নয়ন নিয়ে একটি অডিওভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা দেখানো হয়। পরে যন্ত্রটির ব্যবহারিক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন আজমত গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. আথার উদ্দিন। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তরপর্ব ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
টেটন জানিয়েছে, ভোক্তা প্রযুক্তির পাশাপাশি স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি নিয়েও কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। মাইইসিজিএআই প্রোর মাধ্যমে ইসিজি রেকর্ড করা ও প্রতিবেদন আদান-প্রদানের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করাই তাদের লক্ষ্য।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, পোর্টেবল ইসিজি যন্ত্রে পাওয়া প্রতিবেদনকে চিকিৎসকের মূল্যায়নের বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। হৃদ্রোগের উপসর্গ দেখা দিলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে দেরি করা যাবে না।