এদিকে শনাক্তকরণ মেশিন না থাকায় তাদের কেউ ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত কি না নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
খুলনা বিভাগে প্রতিদিন বাড়ছে শনাক্তের হার। গত ৪৮ দিন পর নগরীতে করোনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা বিভাগে আট জেলায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৫৪ জনের। এ সময়ে খুলনায় একজনের মৃত্যু হয়। এমন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে নগরীতে সাধারণ জনগণের মধ্যে ওমিক্রন সংক্রমণরোধে বিধিনিষেধ মানতে অনীহা দেখা গেছে।
.png)
এদিকে খুলনায় জেলায় মোট ২ লাখ ৩৮ হাজার ৬১ জনকে এই টিকা দেওয়া হবে। এ পর্যন্ত দেড় লাখের বেশি শিক্ষার্থীদেরকে ফাইজারের প্রথম ডোজ করোনা টিকা দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে। এসব টিকা নগরীতে দুইটি ও উপজেলায় ৯টি স্থায়ী কেন্দ্র এবং অস্থায়ী কেন্দ্রে দেওয়া হচ্ছে। গত ৭ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই টিকা কার্যক্রম আগামী ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতর ও সিভিল সার্জন অফিস সূত্র মতে, খুলনা বিভাগে ৮ জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) নতুন করে ৫৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ে খুলনা জেলায় মারা গেছে একজন। শনাক্ত হয়েছে ৯ জন। পুরুষ তিনজন ও নারী ছয়জন। আক্রান্তদের মধ্যে নগরীর বাসিন্দা আটজন এবং একজন ফুলতলা উপজেলা বাসিন্দা রয়েছে। নমুনা পরীক্ষা অনুযায়ী শনাক্তের হার ছিল ৬ দশমিক ৬২ শতাংশ।
গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের ৮ জেলার মধ্যে বাগেরহাটে দুইজন, যশোরে ১৬ জন, ঝিনাইদহে সাতজন, কষ্টিয়ায় ১৩ জন, মেহেরপুরে একজন এবং নড়াইল ও সাতক্ষীরায় তিনজন করে করোনা শনাক্ত হয়। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের ৮ জেলায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছিল ৬০ জন। এ সময়ে কেউ মারা যায়নি। করোনা শুরু থেকে এ পর্যন্ত খুলনা বিভাগে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৮৮১ জন এবং মৃত্যু হয় ৩ হাজার ১৯৫ জন।
খুলনা সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, বৃহস্পতিবার থেকেই সাধারণ মানুষের জন্য ফাইজারের প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ এবং বুস্টার ডোজ টিকা কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাদের অন্য ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। চলমান স্কুল শিক্ষার্থীদের ফাইজারের প্রথম ডোজ দেওয়া নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষের আপাতত ফাইজারের ডোজ দিচ্ছি না। যাতে তালিকা অনুযায়ী কোনো শিক্ষার্থী ফাইজারের টিকা নেয়া থেকে বাদ না পড়ে। আগামী ১৯ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) পর্যন্ত স্কুল শিক্ষার্থীদের টিকা প্রদান কার্যক্রম চলবে।
সিভিল সার্জন আরো বলেন, খুলনায় করোনার শনাক্তের হার আবারো বেড়েই চলেছে। গত ৪৮ দিন পর খুলনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। আমাদের সবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। যারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলবে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। এদিকে ওমিক্রন সংক্রমণরোধে বিধিনিষেধের প্রথম দিনে অধিকাংশই সাধারণ জনগণের স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে অনেকটাই উদাসীন। নগরীর ব্যস্ততম এলাকায় অনেকেই মাস্ক মুখে না লাগিয়ে থুঁতনিতে আটকে ঘুরছেন। অনেকের মুখে নেই মাস্ক।