ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ করোনাভাইরাস ]

চট্টগ্রামে শনাক্তের ৭৫ ভাগই ‘ওমিক্রন’, দুই নমুনায় নতুন ধরন

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:৩৫, ২৯ জানুয়ারি ২০২২
চট্টগ্রামে শনাক্তের ৭৫ ভাগই ‘ওমিক্রন’, দুই নমুনায় নতুন ধরন
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের ৭৫ ভাগের শরীরে আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের অস্তিত্ব মিলেছে। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল এবং আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে আসা রোগীদের নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সে উঠে এসেছে এমনই তথ্য।

২০২১ সালের শেষ দুই মাস নভেম্বর ও ডিসেম্বর এবং চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহের মোট ৩০ জন রোগীর নমুনা নিয়ে এ জিনোম সিকোয়েন্স করা হয়। সম্প্রতি সার্স কভ-২ এর জিনোম সিকোয়েন্স-এর আন্তর্জাতিক ডাটাবেজ জার্মানির ‘গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডাটা’তে (জিআইএসএইড) এ তথ্য প্রকাশিত হয়।

জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ও করোনা ইউনিটের চিকিৎসক ডা. এইচএম হামিদুল্লাহ মেহেদী এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষক ড. আদনান মান্নান। সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতা করে কানাডার ডালহৌসি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি অব ইমার্জিং ইনফেকশাস ডিজিজ। তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করেন অধ্যাপক ডেভিড কেলভিন এবং আব্দুল্লাহ মাহমুদ আল রাফাত।

Advertisement

এছাড়া ছিলেন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের ডা. রাজদ্বীপ বিশ্বাস ও ডা. মিনহাজুল হক এবং মা ও শিশু হাসপাতালের ডা. ফাহিম হাসান রেজা। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন আইসিডিডিআরবির ভাইরোলজি ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানীরা।

জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ে দেখা যায়, নভেম্বরের শুরু থেকে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে আসা সব রোগীই ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত ছিলেন। যার মধ্যে নবজাতক থেকে শুরু করে ৮০ বছরের বৃদ্ধ রোগী রয়েছেন। কিন্তু ২৫ ডিসেম্বরের পর থেকে আসা ৭৫ ভাগ রোগী ছিলেন ওমিক্রনে আক্রান্ত। এর মধ্যে দুই রোগীর শরীরে মিলেছে ওমিক্রনের সাম্প্রতিক ধরন ‘বিএ২’ বা ‘স্টেলথ ওমিক্রন’র অস্তিত্ব। যা এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস ও হিউস্টন, ভারত, চীন এবং ওমানে পাওয়া গেছে। গবেষকদের মতে, চট্টগ্রামে এটিই প্রথম ‘বিএ২’ শনাক্তকরণের তথ্য। এটি খুব বেশি বিপদজ্জনক নয়। তবে এটির স্পাইক প্রোটিন-এ বেশ কিছু নতুন পরিবর্তন রয়েছে, যা এটির শনাক্তকরণকে দুরুহ করতে পারে বলে মন্তব্য করছেন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল  (সিডিসি) এর গবেষকরা।

গবেষকরা বলছেন, ওমিক্রনে আক্রান্ত রোগীদের উপসর্গের মধ্যে রয়েছে- গলাব্যথা ও গলার স্বর বিকৃত হওয়া। প্রায় ৯০ ভাগ রোগীর মধ্যেই এ লক্ষণ পাওয়া গেছে। এছাড়া ৮৫ ভাগ রোগীর শরীরের বিভিন্ন অংশে ব্যথা ও মাথাব্যথা এবং ৮০ ভাগের জ্বরের উপসর্গ দেখা গেছে। ওমিক্রনে আক্রান্ত সকলের বয়স ২১-এর ঊর্ধ্বে।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. এইচএম হামিদুল্লাহ মেহেদী বলেন, চট্টগ্রামে ওমিক্রনের প্রভাব কেমন তা জানতে গবেষণাটি চালানো হয়। মাত্র ৩০টি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সে এ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এত অল্প নমুনার বিশ্লেষণে কোনো উপসংহারে আসা সম্ভব নয়। আরো বেশি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্স করলে এটি নিয়ে আরো ভালো ধারণা পাওয়া যাবে।

জিনমিক সার্ভিলেন্স প্রকল্পের আওতায় গত বছরের এপ্রিল থেকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল এবং মা ও শিশু হাসপাতালের করোনায় আক্রান্ত রোগীদের নমুনা নিয়ে জিনোম সিকোয়েন্স করা শুরু হয়। এতে সহ প্রকল্প পরিচালক হিসেবে রয়েছেন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র মেডিসিন কনসালটেন্ট ডা. আব্দুর রব মাসুম, মা ও শিশু হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সঞ্জয় বিশ্বাস এবং ডা. নাহিদ সুলতানা, আইসিডিডিআরবি’র ভাইরোলজি বিভাগের বিজ্ঞানী ড. মুস্তাফিজুর রহমান এবং ড. মোহাম্মদ এনায়েত হোসেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!