বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বরগুনার এসপি মো. মারুফ হোসেন।
এক প্রশ্নের জবাবে এসপি বলেন, মঙ্গলবার দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ ও বুধবার মিন্নির রিমান্ড মঞ্জুরের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রয়েছে। এরইমধ্যেই মিন্নি রিফাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। এ হত্যার পরিকল্পনার সঙ্গেও মিন্নি যুক্ত ছিলেন।
.png)
এর আগে বুধবার এ হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী ও নিহতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। দিনভর জিজ্ঞাসাবাদের পর মঙ্গলবার রাতে তাকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।
সূত্রে জানা গেছে, স্বামী রিফাত শরীফকে ‘শিক্ষা’ দিতে চেয়েছিল স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। কারণ সে নয়ন বন্ডের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। এ জন্য রিফাতকে একটু ‘টাইট’ (শাস্তি) দিতে নয়ন বন্ডকে দায়িত্ব দিয়েছিলো মিন্নি। সে অনুযায়ী সাজানো হয়েছিলো ছক।
সূত্র বলছে, ঘটনার দিন ছক অনুযায়ী কলেজ গেইটে কালক্ষেপণ করে মিন্নি। তবে রিফাতকে ‘টাইট’ দেয়া যে হত্যায় রুপ নিবে তা মিন্নির ধারণায়ও ছিল না। সেজন্যেই ঘটনার দিন যখন রিফাতকে নয়ন বন্ডের গ্যাংরা টেনে হেচড়ে নিয়ে যায়, তখন মিন্নিকে নির্লিপ্তভাবে হাঁটতে দেখা যায়।
ভেবেছিলেন নয়ন বন্ডরা তাকে সামান্য শিক্ষা দিয়ে ছেড়ে দেবে। কিন্তু মারধরের এক পর্যায়ে হঠাৎ যখন নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী যখন চাপাতি দিয়ে অতর্কিতভাবে রিফাতকে কোপাতে থাকে, তখনই মিন্নি ঝাপটে ধরে রিফাতকে বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালায়। সে চেষ্টায় ব্যর্থ হয় মিন্নি।
সূত্র আরো জানায়, ঘটনার আগের দিন রাতে নয়নের সঙ্গে মিন্নির প্রায় ১৫ মিনিট কথা হয়। সেই সূত্র ধরেই মঙ্গলবার মিন্নিকে বরগুনা সদরের নিজ বাড়ি থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ লাইনে নেয়া হয়। প্রায় ১৪ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।
গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত শরীফকে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা সাতজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।
এ মামলায় মিন্নিসহ এ পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ২ জুলাই ভোরে মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। এখন পর্যন্ত এজাহারভুক্ত তিনজনসহ সাত আসামি হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। এ ঘটনায় বর্তমানে ছয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
ডেইলি বাংলাদেশ/এসআই