তিনি ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার শিলাসি গ্রামের আলাল উদ্দিনের স্ত্রী।
প্রসবকালে অস্ত্রোপচার নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন তিনি। ওই অবস্থায় তার প্রতিবেশী এক ভাড়াটিয়া আলম গর্ভের সন্তানটিকে বিক্রি করে দেয়ার জন্য প্ররোচিত করেন।
.png)
আলমের বাড়ি গফরগাঁও উপজেলার শিবগঞ্জ গ্রামে। সেখানে তার বোন নিঃসন্তান। ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর পরই নবজাতককে দিয়ে দিলে হাসপাতালের বিলসহ তার চিকিৎসা ও এক মাস সংসার খরচও বহন করবেন বলে প্রলোভন দেখিয়েছিল তাকে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে তার প্রসব ব্যথা উঠে। পরে তার বড় মেয়ে তাকে মাওনা চৌরাস্তা শাপলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে সকাল আটটার দিকে অস্ত্রোপচার ছাড়াই মেয়ে শিশুর জন্ম দেন তিনি।
ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর হাসপাতাল থেকেই নবজাতককে নিয়ে গেছে নিঃসন্তান নারী। বিনিময়ে হাসপাতালের বিল মিটিয়েছেন ওই নারী। সন্তান জন্ম দিয়েও তাকে কাছে না পেয়ে রাশিদা বেগম এখন পাগল প্রায়।
ওই সময় তিনি ছিলেন সংজ্ঞাহীন। দুপুর দেড়টার দিকে তার সংজ্ঞা ফেরার পর এক মুহূর্তমাত্র নবজাতকটিকে দেখতে দেয়া হয় তাকে। এরপরই নবজাতককে নিয়ে যায় আলমের বোন।
রাশিদা জানান, নবজাতকের বিনিময়ে আলম হাসপাতালে সাত হাজার টাকা বিল পরিশোধ করেছেন। তিনি বাড়ি ফেরার পর গতকালই একটি সাদা স্ট্যাম্পে আলম তার সই নিয়েছেন। এরপর আলমের আর খোঁজই পাওয়া যাচ্ছে না।
রাশিদা বেগম বলেন, বাচ্চাডার লাইগ্যা অন্তরটা ফাইট্যা যাইতাছে। অহন কি তারা ফেরত দিব। ফেরত দিলেই বাচ্চা লইয়া ক্যামনে কাম কইরা খায়াম।
শ্রীপুর মডেল থানার এস আই দেলোয়ার হোসেন জানান, ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। নবজাতককে উদ্ধার করে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত নবজাতককে উদ্ধার করা যায়নি।