কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা, একজনের যাবজ্জীবন
ঠাকুরগাঁওয়ে রশিদুল ইসলাম নামে এক কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা মামলায় একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
রোববার ঠাকুরগাঁও অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক বিএম তারিকুল কবীর এ রায় ঘোষণা করেন। এছাড়া মামলার অপর আসামি বাহাদুর আলী দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত শহিদুল ইসলাম বুলু ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দক্ষিণ রাজাগাঁও গ্রামের জাকারিয়ার ছেলে ও বাহাদুর আলী একই গ্রামের সংলু কশাইয়ের ছেলে।
.png)
এদিকে, হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আশরাফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, খাদেমুল ইসলাম, একরামুল হক, শাহাদুর, সলিম উদ্দীন ওরফে সংলু কশাই, রজব আলী, শামীম হোসেন, শাহিনুর মোছা ফরিদা বেগমসহ ১০ জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছে আদালত।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০০৬ সালের ১ জুন সকালে দুই ভাই শাহ আলম ও রশিদুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির অদূরে রাজাগাঁও গ্রামে পৈত্রিক জমিতে হালচাষ করতে যান সিরাজুল ইসলাম। এর কিছুক্ষণ পর দণ্ডিতরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সিরাজুলকে হালচাষে বাধা দেন।
সিরাজুল তাদের বাধা দেয়ার কারণ ও মালিকানার কাগজ দেখতে চাইলে আসামিরা চড়াও হয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। এ সময় তাকে বাঁচাতে দুই ভাই এগিয়ে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। পরদিন বিকেলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রশিদুল ইসলাম মারা যান।
এ ঘটনায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মামলা করেন নিহতের বড় ভাই সিরাজুল ইসলাম। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ২০০৭ সালের ২৬ এপ্রিল ১২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেন।