চুয়াডাঙ্গায় দম্পতি খুন: রহস্য খুঁজছে পুলিশ
চুয়াডাঙ্গায় স্বামী স্ত্রীকে কুপিয়ে ও গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার চারদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো হত্যাকাণ্ডের কূল কিনারা খুঁজে পাইনি পুলিশ।
তবে প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধানে পুলিশের পাশাপাশি মাঠে কাজ করছে পিবিআইও। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে অধিক গুরুত্ব দিয়ে রহস্য খুঁজছে তারা। দ্রুতই হত্যাকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি পুলিশের।
গত রোববার রাতে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামে নিজেদের শয়ন কক্ষ থেকে ইয়ার আলী ও তার স্ত্রী রোজিনা খাতুনের ক্ষত বিক্ষত ও গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শনিবার রাতের কোনো এক সময় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা ঘরের দরজা ভেঙে এই দম্পতিকে নৃংশসভাবে হত্যা করে বলে অনুমান পুলিশের। ঘর থেকে হত্যার কাজে ব্যবহৃত একটি ধারালো অস্ত্র ও দুই জোড়া স্যান্ডেলও উদ্ধার করে পুলিশ ও পিবিআই।
.png)
অথচ বাড়িতে ঢুকে দরজা ভেঙে শয়নকক্ষে থাকা দুইজনকে উপর্যুপুরী কুপিয়ে হত্যা করার পর বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। কিন্তু ইয়ার আলীর বাড়ির আশপাশের ঘনবসতি অন্য বাড়ির লোকজন কিংবা পরিবারের অন্য সদস্যরা নাকি কিছুই টের পাইনি। সন্দেহের জমাট এখানেই।
গতকাল বুধবার গোবিন্দপুর গ্রামের ইয়ার আলীর এলাকা সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, হত্যার পর থেকে পরদিন বিকেল পর্যন্ত মরদেহ ঘরে আবদ্ধ থাকলে কেউ তা বুঝতেই পারেনি। রোববার বিকেলে নিহত ইয়ার আলীর ছোট মেয়ে ইতি খাতুন বাড়িতে এসে তার বাবা মায়ের মরদেহ দেখতে পান। তখন বিষয়টি জানতে পারেন প্রতিবেশি ও স্থানীয়রা।
এলাকাবাসী বলছেন, বহুবিবাহের অধিকারী, অর্থ ও নারীলোভী ইয়ার আলীর সঙ্গে জমিজমা নিয়ে তার অন্য চার ভাই ও ভাইয়ের ছেলেদের সঙ্গে বিরোধ অনেক দিনের। এছাড়াও সুদের টাকা লেনদেন, মামলা-পাল্টা মামলা এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে কলহকেও ছোট করে দেখছেন না তারা।
নিহত ইয়ার আলীর ছোট মেয়ে ইতি খাতুনের অভিযোগ, জমি আত্মসাতকে কেন্দ্র করে ভাই ভাতিজাসহ স্বজনদের সঙ্গে বিরোধ ছিলো তার বাবার। এছাড়া অর্ধশত বিঘা সম্পত্তি ও ব্যাংকে থাকা কয়েক লাখ টাকার বিরোধ নিয়ে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ঘটানো হতে পারে বলেও অভিযোগ তাদের।
নিহত ইয়ার আলীর ভাই পিয়ার আলীর দাবি, জমিজায়গা নয় বরং অন্য কোনো ঘটনার জেরে হত্যাকাণ্ড হতে পারে। তাদের ভাইয়ের মধ্যে সম্প্রীতি ছিলো। নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী ও তার পরিবারের লোকজনের সঙ্গে জমি ও টাকা নিয়ে বিরোধ ছিলো ইয়ার আলীর। এ বিষয়টি নিয়েও ভাবছেন তারা।
জোড়া খুনের ঘটনায় পুলিশের পাশাপাশি তদন্তকাজ করছে পিবিআই ও সিআইডি।
চুয়াডাঙ্গার এএসপি (দামুড়হুদা সার্কেল) আবু রাসেল জানান, ইয়ার আলী ও রোজিনা দম্পতি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৯ জনকে সন্দেহভাজন উল্লেখ করে দামুড়হুদা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন নিহতের জামাতা শহিদুল ইসলাম। পুলিশ এ মামলায় ইয়ার আলীর সাবেক দ্বিতীয় স্ত্রী ফেরদৌসি ও তার ভাতিজাসহ ৩ জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে।
চুয়াডাঙ্গার এসপি জাহিদুল ইসলাম জানান, দুটি ক্লু'কে সামনে রেখে অধিক গুরুত্ব দিয়ে জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটির তদন্ত চালানো হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত না বললেও খুব শীঘ্রই রহস্যের জট খুলে হত্যাকারীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন তিনি।