নেত্রকোনায় ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন
নেত্রকোনায় ভুল চিকিৎসায় বারবার প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা সিভিল সার্জন।
বুধবার দুপুরে জেলা সিভিল সার্জন কাযার্লয়ে এক জরুরি সভায় গঠিত কমিটিকে তিন কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. তাজুল ইসলাম।
এতে ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. তৌফিক আহমেদকে প্রধান করে আধুনিক সদর হাসপাাতলের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) একরামুল হাসান, গাইনী কনসালটেন্ট জান্নাত আফরোজ নূপুর, ডা. আহসানুল কবীর রিয়াদ ও ডা. উত্তম কুমারভপালকে সদস্য করা হয়েছে।
.png)
গত সোমবার শহরের সুনেত্র নামের একটি ক্লিনিকে সদর উপজেলার লক্ষীগঞ্জ ইউপির আইরিন আক্তার ঝর্ণা নামের এক প্রসূতি মায়ের সিজার করতে গিয়ে মূত্রথলি কেটে ফেলেন সিএফসি ডা. জীবন কৃষ্ণ।
পরবর্তীতে এ অবস্থায় ফেলে সহযোগীদের হাতে ছেড়ে দিয়ে কলিংয়ে অন্য আরেকটি সিজার করতে চলে যান তিনি। এরপর প্রসূতির অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণের খবর পেয়ে আবারো এসে ওই নারীর জরায়ু কেটে ফেলেন। এভাবে বারবার কাটাকাটির পর পরবর্তীতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠালে মারা যান ওই নারী।
গত মঙ্গলবার মরদেহ এনে লক্ষীগঞ্জ নিজ বাড়িতে দাফন করে স্বজনরা। সকালে পুলিশকে জানালেও সন্ধ্যায় মীমাংসা হয়ে যায়। এদিকে এর আগে মাতৃসদনের ঠিক বিপরীতে আলনুর ক্লিনিকেও একই ঘটনা ঘটান ডা. জীবন কৃষ্ণ। লিখিত অভিযোগ করে আবার টাকায় মীমাংসা হয়ে যাওয়ায় বারবার কোনো পদক্ষেপ নেয়া যাচ্ছে না বলে স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসন জানায়।
এদিকে এমন ঘটনাগুলো অহর্নিশ ঘটে যাওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ফেইসবুক জুড়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। সাধারণ মানুষ আঙ্গুল তুলেছে জেলা সিভিল সার্জনের দিকে।
জেলার সিভিল সার্জন ডা. তাজুল ইসলাম খান জানান, এই ডা. বরাবরই এমন ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু অভিযোগগুলোও শেষ পর্যন্ত মীমাংসা হয়ে যায়। যে কারণে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারিনা। নানা ধরনের সিন্ডিকেটে বারবারই পার পেয়ে যাচ্ছেন তিনি। গতকালও যে রোগীটি মারা গেছেন তিনি সদর হাসপাতালের সাবেক আরএমও মোস্তাফিজুর রহমানের ভাগ্নি। এইভাবে প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর তদন্তে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।