এমন অভিযোগ এনে নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ। তবে মামলা করায় গৃহবধূকে হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। অভিযুক্ত শফুরউদ্দিন সোনারগাঁও পৌরসভার কৃষ্ণপুরা গ্রামের শামসুদ্দিনের ছেলে।
মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে ২৫ অক্টোবর এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়।
.png)
মামলা এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শফুরউদ্দিনের সম্পর্কে ওই গৃহবধূ পাশের বাড়ির ভাবি হন। তার স্বামী কাজের সুবাদে বাড়ির বাইরে থাকেন। এ সুযোগে প্রায় তিন বছর ধরে তাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন শফুরউদ্দিন। এতে রাজি না হওয়ায় কৌশলে বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু বিয়েতেও রাজি হননি গৃহবধূ। ক্ষিপ্ত হয়ে ১১ সেপ্টেম্বর বিকেলে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে গৃহবধূর মুখ ও দুই হাত গামছা দিয়ে বেঁধে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তিতে গৃহবধূর মুখ থেকে গামছা খুলে যায়। পরে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে শফুরউদ্দিনকে হাতেনাতে ধরেন। কিন্তু কিল-ঘুষি মেরে তিনি চলে যান।
বিষয়টি গৃহবধূ তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন ও গণ্যমান্যদের জানান। পরে তারা সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাকে চিকিৎসা দেন। ঘটনার পরদিন সোনারগাঁও থানায় মামলা করতে গেলে ওসি এতে অস্বীকৃতি জানান। বাধ্য হয়ে তিনি নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।
ভুক্তভোগী গৃহবধূ জানান, মামলা করায় সন্তানসহ তাকে বিভিন্নভাবে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন অ্যাডভোকেট শফুরউদ্দিন। বর্তমানে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি।
অভিযুক্ত অ্যাডভোকেট শফুরউদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ অভিযোগ মিথ্যা। এ ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত না।
সোনারগাঁও থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় আদালতে মামলা হয়েছে। মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করছে।