ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

[ মতামত ]

গঙ্গার পানি চুক্তি হোক বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের নতুন সেতু

-সাইফুল ইসলাম শান্ত
প্রকাশিত: ২০:৪৬, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গঙ্গার পানি চুক্তি হোক বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের নতুন সেতু
গঙ্গার পানি চুক্তি

তিন দশক আগে যে সমঝোতা ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গার পানি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসানের পথ দেখিয়েছিল, ২০২৬ সালে এসে সেই চুক্তিই নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ভারতের নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিটির মেয়াদ ছিল ৩০ বছর। ফলে চলতি বছরের ডিসেম্বরেই এর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।

এই ৩০ বছরে অনেক কিছু বদলে গেছে। বদলেছে দুই দেশের জনসংখ্যা, কৃষির ধরন, শিল্পায়ন, পানির চাহিদা ও নদীর ওপর নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে জলবায়ুতে। কোথাও অতিবৃষ্টি আবার কোথাও দীর্ঘ খরা দেখা দিচ্ছে। গঙ্গা অববাহিকায় পানির ব্যবহার বেড়েছে। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট, নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, কৃষি ও মৎস্যসম্পদের ওপর চাপ এবং সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্যের প্রশ্নও আগের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশের জন্য নতুন চুক্তি প্রয়োজন—এ বিষয়ে সন্দেহের খুব বেশি অবকাশ নেই। তবে সেই চুক্তি কেমন হবে, বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা কীভাবে নির্ধারিত হবে এবং আলোচনার টেবিলে বাংলাদেশ কতটা শক্ত অবস্থান নিতে পারবে সেখানেই আসল বিষয়।

১৯৯৬ সালের চুক্তির কাঠামো বুঝতে হলে আগে দেখতে হবে বর্তমানে পানি কীভাবে ভাগ হয়। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত শুষ্ক মৌসুমে ফারাক্কায় গঙ্গার প্রবাহের ভিত্তিতে পানি ভাগ করা হয়। ফারাক্কায় পানির পরিমাণ ৭০ হাজার কিউসেক বা তার কম হলে ভারত ও বাংলাদেশ সমানভাবে পানি পায়। প্রবাহ ৭০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার কিউসেকের মধ্যে হলে বাংলাদেশ পায় ৩৫ হাজার কিউসেক এবং বাকি পানি ভারত পায়। আর প্রবাহ ৭৫ হাজার কিউসেক বা তার বেশি হলে ভারত পায় ৪০ হাজার কিউসেক এবং অবশিষ্ট পানি বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত হয়।

চুক্তিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা রয়েছে। ১১ মার্চ থেকে ১০ মে পর্যন্ত সময়কে তিনটি পর্যায়ে ভাগ করে বাংলাদেশ ও ভারতকে পর্যায়ক্রমে ৩৫ হাজার কিউসেক করে পানি পাওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ শুধু মোট পানির হিসাব নয়, শুষ্ক মৌসুমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দুই দেশের জন্য নির্দিষ্ট পানি পাওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল।

এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯৬ সালের চুক্তির পানি বণ্টনের হিসাব তৈরি হয়েছিল ফারাক্কায় ১৯৪৮ থেকে ১৯৭৩ সালের রেকর্ড করা প্রবাহের ওপর ভিত্তি করে। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত চুক্তির পাঠেও এই বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ আজ যখন নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনা হবে, তখন গত ৩০ বছরের বাস্তব প্রবাহ, বৃষ্টিপাতের পরিবর্তন, শুষ্ক মৌসুমের প্রবাহের ওঠানামা এবং ভবিষ্যৎ জলবায়ু পরিবর্তনের সম্ভাব্য প্রভাবকে নতুন করে হিসাবের মধ্যে আনা জরুরি। কারণ পানি কোনো স্থির সম্পদ নয়। একটি নদীতে এক বছর যে পরিমাণ পানি থাকে, পরের বছর তা একই থাকবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। আবার উজানে পানি ব্যবহারের ধরনও বদলায়। ফলে ৩০ বছর আগের তথ্যের ওপর দাঁড়িয়ে আগামী ৩০ বছরের পানি বণ্টন নির্ধারণ করলে তা ভবিষ্যতের বাস্তবতার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, সেটি অবশ্যই প্রশ্নের বিষয়।

বাংলাদেশের আরেকটি বড় বাস্তবতা হলো ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের পর গঙ্গা পদ্মা নামে প্রবাহিত হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত নদী ও শাখা-প্রশাখা দেশের কৃষি, মৎস্য, নৌপরিবহন, ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত। পানির প্রবাহ কমে গেলে তার প্রভাব এক জায়গায় থেমে থাকে না। নদীর তলদেশে পলি জমা, নাব্যতা কমে যাওয়া, সেচের পানির সংকট, মৎস্যসম্পদের ওপর চাপ, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং সুন্দরবনের মিঠাপানির ভারসাম্যে পরিবর্তন—সবকিছু পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। 

এই জায়গায় আন্তর্জাতিক আইন বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি দিতে পারে। ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ আন্তর্জাতিক জলপ্রবাহের অ-নৌচলাচলমূলক ব্যবহারবিষয়ক একটি কনভেনশন গ্রহণ করে। সেখানে আন্তর্জাতিক নদীর পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ‘ন্যায়সঙ্গত ও যুক্তিসংগত ব্যবহার’-এর নীতি স্বীকৃত হয়েছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আইন কমিশনের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, কোনো দেশ তার ভূখণ্ড দিয়ে প্রবাহিত আন্তর্জাতিক নদীর পানি এমনভাবে ব্যবহার করতে পারে না, যাতে অন্য অংশীদার রাষ্ট্রের সঙ্গে তা অন্যায্য হয়ে যায়। পানি ব্যবহারের ন্যায্যতা নির্ধারণে নদীর ভৌগোলিক ও জলবিদ্যাগত বৈশিষ্ট্য, জলবায়ু, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রয়োজন, নদীর ওপর নির্ভরশীল জনসংখ্যা, বিদ্যমান ব্যবহার, ভবিষ্যৎ প্রয়োজন এবং বিকল্প পানির উৎসসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এখানে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো—আন্তর্জাতিক আইন কোনো নির্দিষ্ট শতাংশ পানি বাংলাদেশকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দিয়ে দেয় না। অর্থাৎ বাংলাদেশ বললেই যে গঙ্গার ৫০ শতাংশ পানি তার প্রাপ্য, আন্তর্জাতিক আইন এমন সরল সূত্র দেয় না। ন্যায্য হিস্যা নির্ধারণ করতে হবে সংশ্লিষ্ট সব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইনে অন্য দেশের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি না করার নীতিও গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘের জলপ্রবাহবিষয়ক কনভেনশনের সপ্তম ধারায় বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক নদীর পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশ অন্য দেশকে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি থেকে রক্ষা করার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। পরিকল্পিত কোনো কাজ অন্য দেশের ওপর উল্লেখযোগ্য বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে হলে আগে থেকেই তথ্য দেওয়া এবং আলোচনা করার ব্যবস্থাও কনভেনশনে রাখা হয়েছে। এগুলো বাংলাদেশের জন্য কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ নীতি। কারণ বাংলাদেশ গঙ্গার ভাটির দেশ। উজানে পানি ব্যবহারের সিদ্ধান্তের প্রভাব স্বাভাবিকভাবেই ভাটিতে এসে পড়ে। তাই গঙ্গার পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে শুধু উজানের প্রয়োজন নয়, ভাটির মানুষের জীবন, কৃষি, পরিবেশ ও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহও বিবেচনায় নিতে হবে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। ১৯৭২ সালে দুই দেশের মধ্যে যৌথ নদী কমিশন প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল অভিন্ন নদীর পানি সম্পদের ন্যায়সঙ্গত ব্যবহার এবং পারস্পরিক সুবিধা নিশ্চিত করা। বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদী ব্যবস্থাপনা, পানি সম্পদের উন্নয়ন ও তথ্য বিনিময়ও কমিশনের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে। এই ৫৪টি নদী বাংলাদেশের জন্য বড় কূটনৈতিক বাস্তবতা। একদিকে ভারত উজানের দেশ হিসেবে ভৌগোলিক সুবিধা পায়, অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের নদীগুলোও একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। ফলে কোনো একটি নদীকে কেন্দ্র করে শুধু একপক্ষের সুবিধা নিশ্চিত করার পরিবর্তে পুরো অভিন্ন নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ আমাদের রয়েছে।

বাংলাদেশের আরেকটি বড় শক্তি হলো তার ভৌগোলিক অবস্থান। একটি নদীর পানি শুধু সীমান্ত পর্যন্ত নয়, পুরো অববাহিকার সঙ্গে সম্পর্কিত। গঙ্গার পানি নিয়ে সমাধান করতে হলে শুধু ফারাক্কা বা বাংলাদেশের সীমান্তের ভেতরের অংশ দেখলে হবে না; নদীর উজান, বৃষ্টিপাত, বিভিন্ন স্থানে পানি প্রত্যাহার, কৃষি ও পরিবেশগত প্রয়োজন—সবকিছু বিবেচনা করতে হবে। এ কারণে আমাদের উচিত নতুন চুক্তির আলোচনায় শুধু ‘কত হাজার কিউসেক পানি পাব’—এই প্রশ্নে আটকে না থাকা। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ কীভাবে বজায় রাখা যায়, খরার বছরে কী হবে, অস্বাভাবিক কম প্রবাহ হলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, নদীর পানি ও প্রবাহের তথ্য কীভাবে দুই দেশ নিয়মিত বিনিময় করবে এবং কোনো পক্ষ নতুন বড় পানি প্রকল্প নিলে তার সম্ভাব্য প্রভাব কীভাবে যাচাই করা হবে—এসব বিষয়ও চুক্তির অংশ করা।

তথ্যের স্বচ্ছতা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯৬ সালের চুক্তির আওতায় ফারাক্কা ও বাংলাদেশের হার্ডিঞ্জ ব্রিজের কাছে যৌথভাবে নদীর প্রবাহ পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। যৌথ নদী কমিশনের বর্তমান কার্যক্রমের মধ্যেও ফারাক্কা ও হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় প্রবাহ পর্যবেক্ষণের কথা বলা হয়েছে। নতুন চুক্তিতে এই যৌথ পর্যবেক্ষণকে আরও শক্তিশালী করা দরকার। দুই দেশের পরিমাপকেন্দ্রের তথ্য একই সময়ে উভয় দেশের কাছে পৌঁছানো, যৌথভাবে তথ্য যাচাই এবং তথ্যের ভিত্তিতে পানি বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যবস্থা থাকলে সন্দেহ ও বিরোধ অনেকটাই কমানো সম্ভব।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো খরার বছর। স্বাভাবিক বছরে পানি ভাগাভাগির সূত্র থাকলেই সমস্যা মেটে না। কোনো বছর যদি গঙ্গার প্রবাহ অস্বাভাবিকভাবে কমে যায়, তখন দুই দেশের পানি বণ্টন কীভাবে হবে—এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট ব্যবস্থা প্রয়োজন। একইভাবে অতিবৃষ্টির বছরে অতিরিক্ত পানির ব্যবস্থাপনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং আগাম সতর্কীকরণ নিয়েও যৌথ ব্যবস্থা থাকা দরকার।

বাংলাদেশের আলোচনায় জলবায়ু পরিবর্তনও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়া উচিত। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় বৃষ্টিপাতের ধরন, নদীর প্রবাহ এবং খরার প্রকৃতি বদলাচ্ছে। আগামী ২০ বা ৩০ বছর আগের মতো থাকবে—এমন ধরে নিয়ে নতুন চুক্তি করা বাস্তবসম্মত হবে না। এ কারণেই নতুন চুক্তিতে নির্দিষ্ট সময় পর পর পর্যালোচনার ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। চুক্তি দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে কিন্তু পানি বণ্টনের তথ্য ও বৈজ্ঞানিক হিসাব যেন প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন করা যায় সেই সুযোগ থাকতে হবে। দর-কষাকষির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হলো ভারত-বাংলাদেশের সামগ্রিক সম্পর্ক। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, সীমান্ত নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক যোগাযোগের মতো বহু বিষয়ে পারস্পরিক স্বার্থ রয়েছে। পানি সমস্যার সমাধানকে এসব সম্পর্ক থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেখলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সুযোগ সীমিত হতে পারে। 

ভারতের জন্য বিষয়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বাংলাদেশ ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী। দুই দেশের সম্পর্ক যত গভীর হবে, তত বেশি প্রয়োজন হবে দীর্ঘমেয়াদি আস্থা ও স্থিতিশীলতার। পানি নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী অসন্তোষ সেই আস্থাকে দুর্বল করতে পারে। ভারত নিজেও বিশাল নদী অববাহিকার দেশ। দেশটির বিভিন্ন রাজ্যের কৃষি, জনজীবন ও অর্থনীতি নদীর ওপর নির্ভরশীল। ফলে আন্তঃসীমান্ত নদীর পানি ব্যবস্থাপনায় একটি ন্যায়সঙ্গত ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ভারতের নিজের জন্যও ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করতে পারে। ভারতের আঞ্চলিক ভাবমূর্তির প্রশ্ন রয়েছে। একটি বড় রাষ্ট্র যখন তার প্রতিবেশী একটি নিম্নাঞ্চলীয় দেশের সঙ্গে অভিন্ন নদীর পানি নিয়ে ন্যায়সঙ্গত সমাধানে পৌঁছায়, তখন সেটি আঞ্চলিক সহযোগিতার উদাহরণ তৈরি করে। পানি সমস্যার সমাধান ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অন্য ক্ষেত্রগুলোতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। দুই দেশের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি হলে বাণিজ্য, যোগাযোগ, পরিবেশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও নদী উন্নয়নসহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানো সহজ হবে।

বাংলাদেশের দাবি হতে হবে দৃঢ় কিন্তু যুক্তিনির্ভর। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হতে হবে বন্ধুত্বপূর্ণ কিন্তু নিজের স্বার্থের প্রশ্নে আপসহীন। আন্তর্জাতিক আইনের ন্যায়সঙ্গত পানি ব্যবহারের নীতি হতে পারে বাংলাদেশের অন্যতম ভিত্তি; ৫৪টি অভিন্ন নদী হতে পারে পারস্পরিক নির্ভরতার প্রমাণ; বৈজ্ঞানিক তথ্য হতে পারে আলোচনার প্রধান অস্ত্র; আর দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক হতে পারে সমঝোতায় পৌঁছানোর বড় প্রেরণা।

গঙ্গার পানি নিয়ে নতুন চুক্তি তাই শুধু পুরোনো চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয় নয়। এটি বাংলাদেশের পানি নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণের প্রশ্ন। আগামী দিনে কত পানি পাওয়া যাবে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি কতটা নিরাপদ থাকবে, সুন্দরবনের পরিবেশ কতটা সুরক্ষিত থাকবে এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কতটা পারস্পরিক আস্থার ওপর দাঁড়াবে—তার একটি বড় অংশ নির্ভর করবে এই আলোচনার ওপর। তিন দশক আগে যে চুক্তি দুই দেশের মধ্যে একটি দীর্ঘ বিরোধের পরিসমাপ্তি ঘটিয়েছিল, ২০২৬ সাল হোক পরবর্তী অধ্যায়।

-লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআই
eMythMakers
Transform Your Digital Presence
Enterprise-grade IT & Web Solutions
Our Expertise
Custom Web Dev News Portals Mobile Apps SEO & Marketing
Ready to Scale Up?
Partner with industry experts today.
Get Started Now
eMythMakers
Transform Your Digital Presence
Enterprise-grade IT & Web Solutions
Our Expertise
Custom Web Dev News Portals Mobile Apps SEO & Marketing
Ready to Scale Up?
Partner with industry experts today.
Get Started Now
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!