সোমবার মাগুরার হাজীপুর ইউপির ফুলবাড়ি গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্বামী মহব্বত আলীকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহতের চাচাতো ভাই মো. ফরিদ শেখ বলেন, প্রায় পনের মাস আগে সদর উপজেলার হাজীপুর ইউপির ফুলবাড়ি গ্রামের নূরালী মোল্যার ছেলে মহব্বত আলী মোল্যার সঙ্গে তার চাচাতো বোন আছমা খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী মহব্বত আলী আছমা খাতুনকে যৌতুকের জন্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন।
.png)
পাঁচ মাস আগে সুদের ওপর দুই লাখ টাকা নিয়ে জামাইয়ের হাতে তুলে দেন আসমার বাবা। তাতেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি স্বামী মহব্বত আলীর।এরমধ্যে তিন মাস আগে আছমা একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন।
তিনি জানান, শুক্রবার মহব্বত আলীর স্বজনরা আছমা খাতুনের বাড়িতে ফোন করে জানান, তাদের মেয়ে খুব অসুস্থ। অসুস্থতার খবর পেয়ে আছমার মা ছায়রা খাতুন ছুটে যান মেয়ের বাড়িতে। শনিবার তাকে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার রাতে তার মৃত্যু হয়।
বিষয়টি আছমার চাচা ইউসুফ আলী পুলিশকে জানালে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে স্বামী মহব্বত আলী ও তার বাবা নূরালী মোল্যাকে আটক করে।
এ বিষয়ে মাগুরা সদর থানার এসআই পারভেজ বলেন, পুলিশ খবর পেয়েই অভিযুক্ত স্বামী মহব্বত আলী ও তার বাবা নূরালী মোল্যাকে আটক করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিহতের মা ছায়রা খাতুন জানান, একদিকে তার মেয়ের মৃত্যুর শোক অন্যদিকে তার নাতির মা হারানোর কান্নাকাটি তিনি সইতে পারছেন না। তিন মাসের শিশুপুত্রটি দুধ খাওয়ার জন্য বারবার মাকে খুঁজছে। এই দৃশ্য তারা কেউ সইতে পারছেন না। শিশুটিকে সুজি রান্না করে খাওয়ানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।