এদিকে উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, আরো ১০-১২ দিন পর পুরোদমে ধান কাটা শুরু হবে। যারা আগাম জাতের ধান আবাদ করেছে তারা মনের আনন্দে ধান কাটছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি বোরো মৌসুমে পৌর শহরসহ উপজেলায় প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমিতে ধানের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
.png)
মৌসুমের শুরু থেকে আবহাওয়া ও প্রকৃতি ধান চাষের অনুকূলে থাকায় মাঠে তেমন কোনো রোগ বালাইয়ের আক্রমণ দেখা যায়নি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ মৌসুমে ফলন ভাল হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় পৌর শহরের খালাজুড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় কৃষক আগাম জাতের ধান কাটছেন। কৃষকরা ব্যস্ত এখন সময় পার করছেন। এ উপজেলায় বি-আর ২৮, বি-আর ২৯, হীরা, হাইব্রিড সবুজ সাথী, এসএলএইডএইচ, জাগরনীসহ বিভিন্ন প্রজাতির ধান চাষ করা হয়।
পৌর শহরের খালাজুড়া এলাকার কৃষক মো. কাইয়ুম মিয়া বলেন, এ মৌসুমে ৭ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়। আজ থেকে ধান কাটা তিনি শুরু করেছেন।
তিনি আরো বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর ফলন ভালো হয়েছে। সময়মতো বৃষ্টি হলে ফলন আরো ভালো হতো বলে জানায়।
কৃষক ইদ্রিস মিয়া বলেন, আগাম জাতের ধান এরইমধ্যে কাটা শুরু হয়েছে। তিনি আশা করছেন আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যে তার ধান কাটা শেষ হবে। এবার ফলন ভালো হয়েছে। কোনো প্রকার পোকার উপদ্রব ছিল না।

দুর্গাপুর এলাকার মো. হামদু মিয়া জানান, এ মৌসুমে তিনি ১০ বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছেন। এখনো ধান কাটা হয়নি। ৫-৭ দিনের মধ্যে তার জমির ধান কাটা হবে। জমিতে ধানের যে অবস্থা দেখছেন এতে তিনি খুশি।
দক্ষিণ ইউপির কৃষক মো. তাজুল ইসলাম বলেন, এ মৌসুমে ৮ বিঘা বি-আর ২৮, বি-আর ২৯, ধান আবাদ করা হয়। জমিতে ধান কাটা শুরু হয়েছে। ধানের ফলন ভাল হয়েছে।
পৌর শহরের তারাগন এলাকার মো. শাহআলম জানান, এ মৌসুমে ৬ বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছেন। বর্তমানে ধান জমির অবস্থা ভালো। এক সপ্তাহের মধ্যে তার জমির ধান কাটা হবে। জমির দিকে তাকালে মন জুড়িয়ে যায়। এবার বড় ধরনের ঝড় বা শিলা বৃষ্টি না হলে বোরো ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন।
উপজেলা সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. জহিরুল হক বলেন, পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হয়েছে। পুরুদমে ধান কাটা শুরু হতে আরো ১০-১২ দিন সময় লেগে যাবে। কোনো প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে চলতি মৌসুমে উপজেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন।