ভিক্ষুক হাসি রানিকে বাড়ি পাঠালেন ইউএনও
মঙ্গলবার ফেসবুকে ভিক্ষুক হাসি রানির একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। সেখানে তিনি ছেলে ঝন্টু ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে জানান, তিনি তিনদিন ভাত খান না। ছেলে তার ওষুধ কেনার জন্য কোনো টাকা-পয়সা দেয় না। তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে, তার বউমা তাকে বাড়িতে ফিরলে ঝাড়ুপেটা করবে বলে বাড়ির দরজায় তালা দিয়ে রেখেছে। এমনকি তাকে গোয়াল ঘরে ফেলে রেখে মারধর করে এবং তার ভাতার টাকাও নিয়ে নেয়।
এমন অবস্থায় মাগুরা পৌরসভার নান্দুয়ালী ৭ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারন্দায় আশ্রয় নেন ভিক্ষুক হাসি রানি। তিনি বলেন, রাতে ঘুম আসে না মশার কামড়ে। আবা পুরুষ লোকের আশপাশে ঘুমাই- এসব কথা জানার পরও আমার ছেলে ও ছেলের বউ কোনো খোঁজ নেয় না। নাতি-নাতনিকে দেখার জন্য এবং দুবেলা দুমুঠো খেয়ে একটু শান্তিতে থাকার জন্য হলেও ছেলের বাড়িতে থাকতে চাই।
ভিক্ষুক হাসি রানির ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি মাগুরা সদরের ইউএনও ইয়াসিন কবিরের নজরে আসে। পরদিন বুধবার সকালে ওই ভিক্ষুকের ছেলে ঝন্টু শেখকে জিজ্ঞাবাদের জন্য উপজেলা পরিষদের ডাকা হয়। ইউএনও ঘটনাটি তদন্তের জন্য পৌরসভার নান্দুয়ালী ৭ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান এবং হাসি রানিকে দেখতে পান। ওই সময় হাসি বেগমের ছেলে ঝন্টু ও তার স্ত্রী, পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মনিরা বেগম শাবানা উপস্থিত ছিলেন।
.png)
কাউন্সিলর শাবানা বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে হাসি রানি আমাকে জানিয়েছিলেন এবং আমি বিষয়টি নিয়ে তদন্তও করেছি।
এদিকে, হাসি রানির অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তাকে প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। এছাড়া তার ছেলে ও ছেলের বউকে বুঝিয়ে সতর্ক করে দেন।
জানা গেছে, মাগুরা সদরের ইউএনও ইয়াসিন কবির তার আগের কর্মস্থল শ্রীপুরেও এমন অনেক মানবিক কাজের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।