রোববার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার সিডস্টোর কাজী অফিস গলিতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুরা হলো, গার্মেন্টস কর্মী সুমনের বড় মেয়ে খাদিজা, ছেলে রায়হান ও ছোট মেয়ে রাদিয়া।
জানা গেছে, নেত্রকোণা জেলার কমলাকান্দা উপজেলা থেকে কয়েক বছর আগে সুমন ও তার স্ত্রী মদিনা বেগম কাজের সন্ধানে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় আসেন। এখানে তিন শিশু সন্তানকে নিয়ে স্থানীয় রুবেল মিয়া নামে এক ব্যক্তির বাসায় ভাড়ায় বসবাস করছিলেন। সুমন ও তার স্ত্রী মদিনা কাজ করতেন স্থানীয় একটি কারখানায়।
.png)
এদিকে রোববার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে তিন সন্তানকে বাসায় রেখে বাইরে দিয়ে তালা দিয়ে পাশের দোকানে চা পান করতে যান তারা। পরে তালাবন্ধ ঘরে হঠাৎ আগুন লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় তিন শিশু সন্তান ঘর থেকে বের হতে না পেরে চিৎকার শুরু করে। প্রাথমিকভাবে স্থানীয়রা আগুন নেভাতে চেষ্টা করে। এ সময় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু ততক্ষণে আগুনে তালাবন্ধ ঘরসহ আশপাশের আরও পাঁচটি ঘর পুড়ে যায়।
আরো পড়ুন: ফেসবুকে প্রেম, প্রথম দেখায়ই প্রেমিকাকে অপহরণের পর ধর্ষণ
ভালুকা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আল মামুন জানান, রোববার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত সোয়া ৯টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে রওনা করি। আগুন লাগা বাসাটি অত্যন্ত চিপা গলিতে থাকায় গাড়ি নিয়ে প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি। ফলে দূর থেকে পাইপ টেনে পানি দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, উৎসুক জনতার ভিড়ে উদ্ধার কাজ কিছুটা ব্যাহত হয়। পরে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে এ ঘটনা ঘটেছে।
ভালুকা থানার ওসি কামাল হোসেন জানান, রোববার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে তিন শিশু সন্তানকে বাসায় রেখে সুমন তার স্ত্রীকে নিয়ে চা পান করতে বাইরে যান। এ সময় বাসায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটে। পুরো বসতঘর আগুনে পুড়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে নিহত তিন শিশুর পুড়ে যাওয়া হাত-পা উদ্ধার করা হয়েছে।