নতুন করে চারা রোপণের আর কোনো উপায় নেই। সীমান্ত এলাকার কৃষকরা জানান, প্রায় প্রতি রাতেই আমন ফসলের ক্ষেতে তাণ্ডব চালিয়ে আসছে বন্যহাতির দল।
ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতিদিন সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার পর হাতির দল পাহাড় থেকে লোকালয়ে নেমে আসে। তাণ্ডব চালায় ফসলি জমিতে। ফসল খেয়ে ও পা দিয়ে পিষিয়ে নষ্ট করে ফেলছে। এতে করে উঠতি ফসল হারিয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছেন ওই এলাকার কৃষকরা। এমতাবস্থায় ঢাক-ঢোল বাজিয়ে ও আগুন জ্বালিয়ে হাতি তাড়ানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছেন কৃষকরা।
.png)
জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে বন্য হাতির বিশাল একটি দল অবস্থান করছে সীমান্তঘেঁষা ভারতীয় মেঘালয় রাজ্যের চেরেংপাড়া পাহাড়ি অঞ্চলে। হাতির এই দলটি প্রায় প্রতিদিন নালিতাবাড়ী উপজেলার পানিহাটা এলাকার মারং গোঁফ ও তালতলা দিয়ে নেমে আসছে আবাদি জমিতে। পানিহাটা মৌজার আমন আবাদ বিনষ্ট করে দিচ্ছে হাতি।

ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, চলতি বছর বন্য হাতির দল প্রথমে বোরো ধান, গাছের কাঁঠাল খেয়ে সাবাড় করে ফেলে। পরে আমনের বীজতলা মাড়িয়ে নষ্ট করে। এখন আমনের আবাদ বিনষ্ট করছে। খাদ্যের সন্ধানে অভুক্ত হাতিগুলো লোকালয়ে এসে ছুটোছুটি করে। হাতির তাণ্ডবে এখন তাদের রাত কাটে নির্ঘুম।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক-জয়নাল আবদীন, আবুল হোসেন, আকবর আলী, আব্দুল কাদির, আশালতা, নুরুলা চিশিম বলেন, প্রতি বছর বন্যহাতিগুলো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করে। আমরা বন্যহাতির আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে সরকারের সহযোগিতার দাবি জানাই।
পানিহাটা এলাকার এলিফেন্ট রেসপন্স টিমের সভাপতি যোসেফ মারাক বলেন, হাতিগুেেলা পাহাড় থেকে দলবেঁধে নেমে আসে ফসলের ক্ষেতে। রাত জেগে পাহারা দিয়েও রক্ষা হয় না। প্রশাসনের সহযোগিতা ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতি পূরণের দাবি জানাই।
রামচন্দ্রকুড়া ইউপি চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম খোকা হাতির আক্রমণ রোধে সরকারের স্থায়ী পদক্ষেপ কামনা করে বলেন, বছরের পর বছর ধরে বন্যহাতির তাণ্ডবে পাহাড়ি মানুষের জীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে।
নালিতাবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর কবির বলেন, আপাতত তাদেরকে আমন ধানের চারা করার আর সুযোগ নেই। তবে সামনে কোন প্রণোদনা পুর্নবাসন কর্মসূচিতে তাদের অর্ন্তভুক্তি করে কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার প্রয়াস চালাবো।
এ ব্যাপারে নালিতাবাড়ীর ইউএনও হেলেনা পারভীন বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা চাওয়া হয়েছে। তালিকা পেলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।