পাবনায় পৌর কর্মচারীকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা
পাবনার সুজানগর পৌরসভার কর্মচারী আল আমিন প্রামাণিককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। একই সময় আল আমিনের ভাই রজব আলীকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। রজব আলীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে পাবনা সদর উপজেলার আতাইকুলা থানার সাদুল্লাহপুর মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আল আমিন সুজানগর পৌরসভার রাধানগর মহল্লার আব্দুস সাত্তার প্রামাণিকের ছেলে। তিনি সুজানগর পৌরসভার টিকাদানকারী পদে চাকরি করতেন।
এ হত্যাকাণ্ডে পাবনা ডিবি, আতাইকুলা ও সুজানগর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে সুজানগর পৌরসভার সাবেক মেয়র তোফাজ্জল হোসেন তোফা এবং তার ভাই জুয়েল রানাসহ চারজনকে আটক করেছে। তাদের কাছ থেকে ২টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
.png)
এদিকে এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী পাবনা-সুজানগর মহাসড়কে এবং সুজানগর পৌরসভায় কয়েক দফা বিক্ষোভ করেছেন। এছাড়া কর্মচারী হত্যার প্রতিবাদে সুজানগর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার কালোব্যাজ ধারণসহ বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সোমবার পাবনার আদালতে আগের একটি মামলায় হাজিরা দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন আল আমিন প্রামাণিক ও তার বড় ভাই রজব আলী প্রামাণিক। দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে দু’ভাই একটি সিএনজি যোগে আতাইকুলা থানার সাদুল্লাপুর মোড়ে পৌঁছালে প্রতিপক্ষের একদল সন্ত্রাসী দু’ভাই এর ওপর হামলা চালায় এবং তাদের কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়। গুরুতর আহত দু’জনকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আল আমিনকে মৃত ঘোষণা করেন এবং তার ভাই আহত রজব আলীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
স্থানীয়রা আরো জানান, সুজানগর পৌরসভার সাবেক মেয়র তোফাজ্জল হোসেন তোফা এবং তার ভাইজুয়েল রানার সঙ্গে আল আমিন ও রজবদের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ছিল। এরই জেরে রোববার রাতে দু’গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
নিহত আল আমিনের স্ত্রী মুন্নী খাতুন অভিযোগ করেন, পূর্ব বিরোধ এবং রোববার রাতের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার জেরেই তোফা এবং জুয়েল রানার নেতৃত্বে সন্ত্রসীরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর পাবনা ডিবি ও সুজানগর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে সুজানগর পৌরসভার সাবেক মেয়র তোফাজ্জল হোসেন তোফা এবং তার ভাই জুয়েল রানাসহ চারজনকে আটক করে। আটক অন্য দু’জন হলো, লিটন এবং শ্রী গৌর কুমার। তাদের কাছ থেকে ২টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তোফাজ্জল হোসেন তোফাসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ মাঠে কাজ করছে।