ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

সন্তানসহ আত্মহত্যার প্রস্তুতি, পুলিশের তৎপরতায় বাঁচল ৩ প্রাণ

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২২:৫৫, ১৯ মার্চ ২০২২
সন্তানসহ আত্মহত্যার প্রস্তুতি, পুলিশের তৎপরতায় বাঁচল ৩ প্রাণ
ফাইল ফটো

পারিবারিক কলহের জেরে ১০ বছরের সংসারের ইতি ঘটে। ওই দম্পতির আছে ৯ বছর বয়সী এক মেয়ে ও ৪ বছর বয়সী এক ছেলে সন্তান। স্বামীকে তালাক দিয়ে দুই সন্তানকে বাবার কাছে পাঠিয়ে দেন স্ত্রী। পরে স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেও শ্বশুরবাড়ি থেকে লাঞ্ছিত হয়ে ফিরে আসেন স্বামী।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার জালকুড়ি এলাকা থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে ওই যুবক দুই সন্তানসহ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার কথা জানান। দোকান থেকে তিনজনের জন্য কাফনের কাপড়ও সংগ্রহ করেন। ফেসবুকে ওই যুবকের আত্মহত্যার বিষয়টি জানতে পারেন তারই ফেসবুকের এক বন্ধু। তিনি দ্রুত জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানান। পুলিশের তাৎক্ষনিক তৎপরতায় বেঁচে যায় তিনটি প্রাণ।

Advertisement

পুলিশের সূত্র জানায়, পুলিশ প্রথমে ফেসবুক থেকে ওই যুবকের ফোন নম্বর সংগ্রহ করে। এরপর তার সঙ্গে দফায় দফায় যোগাযোগ করে তাকে আত্মহত্যার পথ থেকে ফেরায়। পরে থানায় ডেকে এনে কাউন্সেলিং ও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলে আত্মহত্যার পথ থেকে তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়। সামাজিক অবস্থা বিবেচনায় তাদের নাম-পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুল হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, ওই ব্যক্তির স্ত্রী তাকে তালাক দিলে প্রচণ্ড হতাশা থেকে দুই সন্তান নিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান তিনি। পরিকল্পনা ছিল লাইভে থেকেই সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক এলাকার ভাড়া বাসায় গিয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে গলায় ফাঁস দেবেন। ফেসবুক লাইভে থেকে তিনি বাসার দিকে যাচ্ছিলেন। ওই ব্যক্তি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার যন্ত্রাংশের ব্যবসা করেন। থানায় ডেকে এনে তাদের সঙ্গে কথা বলে আত্মহত্যার পথ থেকে নির্বৃত্ত করা হয়েছে।

নাজমুল হাসান বলেন, ‘সংসারটি টিকে যাওয়ার মতো। পরে শ্বশুর, শাশুড়ি, আইনজীবী ও স্থানীয় গণ্যমান্য এক ব্যক্তির উপস্থিতিতে ওই ব্যক্তিকে তাদের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে। মানবিক কারণে তাকে আরেকবার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছি। তারা একসঙ্গেই আছেন।’

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, তার কর্মজীবনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দিন ছিল এটি। সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে সব ধরনের পন্থা অবলম্বন করে তিনজনকে আত্মহত্যার পথ থেকে ফেরাতে সক্ষম হন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!