বুধবার যশোরের স্পেশাল জজ (জেলা ও দায়রা জজ) আদালতে বিচারক মোহাম্মদ সামছুল হক এ আদেশ দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত (চাকরিচ্যুত) রেশাদ মো. আব্দুল আমিজ খুলনা শেরেবাংলা রোডের বানিয়াখামার এলকার মৃত শেখ শতকত আলীর ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের পিপি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালের ১২ ফেব্রæয়ারি রেশাদ মো. আব্দুল আজিম নওয়াপাড়া বাজার শাখায় ব্যবস্থাপক হিসেবে যোগদান করেন। এরপর ওই ব্যাংকের কর্মকর্তা ইদ্রিস আলী ও শেখ আব্দুল হোসেনের সহযোগিতায় ব্যবস্থাপক ৪০ লাখ ৮৬ হাজার ৪২৭ টাকা আত্মসাৎ করেন। যা ২০১২ সালের ৪ জুন থেকে ১৩ জুন পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ অডিটে ধরা পড়ে। এ ব্যপারে তৎকালীন ম্যানেজার মো. সুলতান ২০১৩ সালের ৬ জুন ওই তিনজনকে আসামি করে সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলা করেন। এ মামলার তদন্তের দায়িত্ব পান দুদকের সহকারী পরিচালক ওয়াজেদ আলী গাজী।
.png)
মামলার তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, আসামি ব্যবস্থাপক রেশাদ মো.আব্দুল আজিম ২৪ জন গ্রাহকের বিনিয়োগ বিতরণের সময় স্বাক্ষরিত অলিখিত চেক রেখে দেন। ২০১১ সালের ২৪ জুলাই থেকে ১২ সালের ১৭ মে পর্যন্ত তিনি ওই চেকগুলো নগদায়ন করে ১০ লাখ ৮৯ হাজার ৭২০ টাকা আত্মসাৎ করেন। অডিটে বিষয়টি ধরা পড়লে তিনি ৪০ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা দেন। তারপরও ব্যবস্থাপক রেশাদ ১০ লাখ ৪৯ হাজার ৭২৫ টাকা আত্মসাৎ করেন। এ মামলার সাক্ষীদের বক্তব্য ও অডিট রিপোর্ট পর্যালোচনা করে দুর্নীতির মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়ায় ২০১৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আসামি রেশাদ মো. আব্দুল আজিমকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তা। অপর দুই আসামি ইদ্রিস আলী ও শেখ আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ না পাওয়ায় থেকে তাদের অব্যাহতির আবেদন করা হয়।
এ মামলার দীর্ঘ সাক্ষীগ্রহণ শেষে আসামি রেশাদ মো. আব্দুল আজিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন। সাজাপ্রাপ্ত রেশাদ মো. আব্দুল আজিম পলাতক রয়েছেন।