ঢাকা,  সোমবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

বিয়ে করতে এসে জেল খেটে নিজ দেশে ফিরলেন ভারতীয় তরুণী

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:১৮, ২৪ মার্চ ২০২২
বিয়ে করতে এসে জেল খেটে নিজ দেশে ফিরলেন ভারতীয় তরুণী
মনিরাকে ভারতীয় পুলিশ ও স্বজনদের হাতে তুলে দেয় বিজিবি

বিয়ে করতে এসে প্রায় এক বছর জেল খেটে নিজ দেশে ফিরেছেন ভারতীয় তরুণী মনিরা খাতুন। বৃহস্পতিবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা বন্দর চেকপোস্টে তাকে ভারতীয় পুলিশ ও স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

এর আগে, দর্শনা আন্তর্জাতিক চেকপোস্টের বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের শূন্যরেখায় সীমান্ত পিলার ৭৬ নম্বরের কাছে বিজিবি-বিএসএফের পতাকা বৈঠক হয়।

বাংলাদেশের আদালতের রায়ে তিন মাসের জেল হলেও দুই দেশের চিঠি আদান-প্রদানে দেরি হওয়ায় প্রায় এক বছর কারাগারে থাকতে হয়েছে ভারতীয় এ তরুণীকে। মনিরা ভারতের নদীয়া জেলার ধানতলা থানার চাঁদপুর গ্রামের আইয়ুব আলী বিশ্বাসের মেয়ে।

Advertisement

জানা গেছে, ২০২১ সালের ১ এপ্রিল বিকেলে অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ঝিনাইদহের খালিশপুরে মামার বাড়িতে বেড়াতে আসেন মনিরা। ওই সময় মহেশপুর সীমান্তে ৫৮ বিজিবির হাতে ধরা পড়েন তিনি। পর তাকে থানায় সোপর্দ করে বিজিবি। এরপর মনিরাকে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। পাসপোর্টবিহীন বাংলাদেশে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের দায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড দেয় আদালত। এরপর থেকে ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে ছিলেন তিনি। দুই দেশের বন্দি বিনিময় প্রক্রিয়ার জটিলতায় সেখানে কেটে যায় প্রায় এক বছর। অবশেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজ দেশ ও পরিবারের কাছে ফিরেছেন।

মনিরা খাতুন জানান, তিনি নদিয়া জেলার বগুলা শ্রীকৃষ্ণ কলেজের বিএ প্রথমবর্ষে পড়ালেখা করছিলেন। তিন বছর আগে ফেসবুকে ‘পিজন মুন’ নামের একটি আউডি থেকে ময়মনসিংহের সরাফাত হোসেন নামের এক ছেলের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তারা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। পরে বিয়ে করতেই বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেন।

দুপুরে দর্শনা চেকপোস্টের জিরো পয়েন্টে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- বিজিবি দর্শনা কোম্পানি কমান্ডার জহির উদ্দীন, আইসিপি কমান্ডার আলাউদ্দিন, ইমিগ্রেশন ইনচার্জ এসআই আব্দুল আলীম, দর্শনা থানার এসআই নিতীশ বিশ্বাস, ঝিনাইদহ কারাগারের ডেপুটি জেলার সাইফুল ইসলাম, মানবাধিকার কর্মী ওয়েভ ফাউন্ডেশনের আতিয়ার রহমান।

ভারতের পক্ষে ছিলেন- বিএসএফের গেঁদে কোম্পানি কমান্ডার এসি রাবেন্দ্র কুমার, কৃষ্ণগঞ্জ থানার এসআই বাবিন মুর্খাজি, ইমিগ্রেশন ইনচার্জ সন্দীপ কুমার তেওয়ারি, কাস্টমস কর্মকর্তা অজয় নারায়ণ রায়, ডিআইবি সাধন কুমার মণ্ডল।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!