১৮ স্ক্রু’তে বসল আকিবের মাথার হাড়
দীর্ঘ পাঁচ মাস পেটে রাখার পর আকিবের মাথার খুলির হাড়টি পুনরায় মাথায় প্রতিস্থাপনে ১৮টি বিশেষ স্ক্রু ব্যবহার করেছেন চিকিৎসকরা। উন্নতমানের এসব স্ক্রু’কে তাদের ভাষায় বলা হয় ‘টাইটানিয়াম সেলস বাটন’।
তাছাড়া দীর্ঘ সময় ভাঙা হাড় পেটে রেখে তা দ্বিতীয়বার বের করে প্রতিস্থাপন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের চিকিৎসকদের জন্য এটিই প্রথম বলে জানিয়েছেন তারা।
সোমবার সকাল ৯টা থেকে শুরু করে বিকেল ৩টা ১০ মিনিট পর্যন্ত আকিবের মাথা ও পেটে পৃথক দুটি অস্ত্রোপচার করা হয়। এতে নিউরো সার্জারি বিভাগ ও এনেস্থেসিয়া বিভাগের তিনটি দলে মোট ১৫ জন চিকিৎসক অংশ নেন। পুরো অস্ত্রোপচারে নেতৃত্ব দেন হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এসএম নোমান খালেদ চৌধুরী।
.png)
এর আগে, রোববার বিকেলে আকিবকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরে সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অস্ত্রোপচারের সব প্রস্তুতি শেষ হয়।
চিকিৎসকরা জানান, সোমবার সকাল ৯টার আগেই আকিবকে নিউরো সার্জারি বিভাগের অস্ত্রোপচার কক্ষে ঢোকানো হয়। ৯টার দিকে তাকে অচেতন করে চিকিৎসকদের এনেস্থিসিয়া দল। এরপর ৯টা ২০ মিনিটে ডা. এসএম নোমান খালেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে চিকিৎসকরা দুটি দলে বিভক্ত হয়ে অস্ত্রোপচারের কাজ শুরু করেন।
প্রথমে পেটের চামড়া কেটে সেখানে রাখা হাড়টি বের করা হয়। এরপর তা জীবাণুমুক্ত করে দুপুর থেকেই মাথায় অস্ত্রোপচার শুরু হয়। মাথায় অস্ত্রোপচারের পুরো কাজটিই করেন নোমান খালেদ চৌধুরী।
সফল অস্ত্রোপচারের পর বিকেল চারটার দিকে আকিবের জ্ঞান ফেরে। ওই সময় হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামীম আহসান ও কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সাহেনা আক্তারসহ বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে দেখতে যান।
আকিব বর্তমানে হাসপাতালের চতুর্থ তলার আইসিইউ বিভাগের পর্যবেক্ষণ কক্ষে রয়েছেন। জ্ঞান ফেরার পর তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন বলেও জানান চিকিৎসকরা।
আকিবের চিকিৎসার অগ্রনায়ক ডা. এসএম নোমান খালেদ চৌধুরী বলেন, আমরা সফলভাবে আকিবের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করতে পেরেছি। তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
‘হাড় নেই, চাপ দেবেন না’ মাথায় থাকা ব্যান্ডেজে এমন লিখায় দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন চমেকের এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আকিব হাসান। গত বছরের ৩০ অক্টোবর চমেকে দুটি গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। ওই সময় চমেকের প্রধান ফটক এলাকায় প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হন তিনি। হামলায় তার মাথার হাড় ও ব্রেইনে মারাত্মক জখম হয়। সে সময় প্রায় ১৯ দিন চিকিৎসা শেষে আকিব সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও প্রতিস্থাপন করা হয়নি মাথার হাড়। খুলে রাখা হয়েছিল পেটের একটি বিশেষ স্থানে।