নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ডাংগা ইউপির বিভিন্ন গ্রামে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অতি দ্রুত নিচে নেমে যাওয়ায় এখানকার বেশির ভাগ নলকূপ দিয়ে পানি উঠছে না। এতে অকেজো হয়ে পড়েছে অসংখ্য নলকূপ।
ফলে গৃহস্থালীর কাজে ব্যবহৃত ও খাবার পানি নিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বেশির ভাগ পরিবারের। গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে নলকূপ থাকলেও তাতে পানি নেই। নলকূপের হাতল চেপে পানি বের করা কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। গভীর নলকূপ থেকে সাধারণ মোটরেও পানি উঠছে না।
.png)

অবস্থা প্রকট হয়ে ওঠায় পানির সংকটে পড়েছেন ডাংগার কাজৈর, গালিমপুর, ইসলামপাড়া, কাজীরচর ও ডাংগা বাজার এলাকার হাজার হাজার বাসিন্দা। এমন পানির সংকট গত কয়েক যুগেও দেখা যায়নি বলে জানান ওই সব এলাকার লোকজন। নলকূপে পানি না ওঠায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকার বাসিন্দারা।
গত দুই মাস ধরে গ্রামগুলোতে নলকূপে পানি শূন্যতার কারণে সুপেয় পানির জন্য দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ওই এলাকার বাসিন্দাদের। ডাংগা ইউনিয়নের বেশির ভাগ এলাকার লোকজনের পানির চরম সংকট চলছে। পানির অভাবে ওই এলাকার অনেক কৃষিজমি অনাবাদী থাকছে।

উপজেলার ডাংগা ইউপির গালিমপুরের মজিবুর, ইসলামপাড়ার জনি, আব্দুল হামিদ, বাচ্চু, গাফফার মিয়া ও আলম জানান, গ্রামের বেশিরভাগ নলকূপগুলোতে পানি উঠছে না। সাধারণ মোটরের মাধ্যমেও ঠিকমত পানি পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে এলাকার অধিকাংশ পরিবার বাড়ি থেকে বেশ খানিক দূরের অন্য প্রতিবেশির সাব মার্সেবল মোটর থেকে পানি এনে খাবার পানির চাহিদা মেটাচ্ছেন। এদিকে প্রচণ্ড তাপদাহে এখানকার জনজীবনও অচল হয়ে পড়ছে।

ডাংগা ইউপি চেয়ারম্যান সাবের উল হাই জানান, তীব্র পানি সংকটে ভুগছেন ডাংগার কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা। ২০২০-২১ অর্থ বছরে যাদের বেশি সমস্যা তাদের অগ্রাধিকার ভিক্তিতে ২৬টি নলকূপ দেয়া হয়েছিলো। এ বছরও অগ্রাধিকার ভিক্তিতে আরো কিছু সাব-মার্সিবল নলকূপ দেয়া হচ্ছে।
পলাশ উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী (জনস্বাস্থ্য) হালিমা আক্তার জানান, কিছু দিনের মধ্যেই ওই গ্রামগুলোতে সাব-মার্সিবল নলকূপ বসানো হবে। পানির স্তরটা নিচে নেমে যাওয়ার কারণেই পানির সংকট দেখা দিয়েছে। ডাংগা এলাকায় অনেক শিল্প কারখানা গড়ে উঠার কারণেই পানির স্তরটা নিচে নেমে গেছে মনে করেন তিনি।