ক্যাম্প প্রশাসনকে ম্যানেজ করে প্রতিদিন হাজার হাজার রোহিঙ্গা বের হলেও পুনরায় ক্যাম্পে ফিরে আসেন না। ফলে খুন, অপহরণ, মাদক পাচারসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন এসব রোহিঙ্গারা।
বুধবার (৬ মার্চ) সকালে রোহিঙ্গারা ক্যাম্প থেকে বের হয়ে কাজের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে রাজাপালং ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে ১২৮ রোহিঙ্গাকে আটক করা হয় বলে জানান উখিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গাজী সালাহ উদ্দিন। তিনি বলেন, আটককৃত রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
.png)
তিনি আরো বলেন, মানবপাচারের জড়িত থাকার অপরাধে ৬ দালালকে আটক করে মামলা করা হয়েছে।
উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, এর আগে মঙ্গলবার ক্যাম্প থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় উখিয়া স্টেশনের আশেপাশে অভিযান চালিয়ে ৮০ রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে এসব রোহিঙ্গাদের কুতুপালং ট্রানজিট ক্যাম্পে স্থানান্তর করা হয়।
একইভাবে গত ৪ এপ্রিল ক্যাম্প থেকে পালানোর সময় উখিয়া থানা পুলিশ ১৮৪ রোহিঙ্গাকে আটক করে। একইদিন পৃথক অভিযান চালিয়ে টেকনাফ থানা পুলিশ ৫০ রোহিঙ্গাকে আটক করে।
গত ২১ মার্চ কক্সবাজারের সোনাদিয়া দ্বীপে মালয়েশিয়াগামী ট্রলার থেকে ১০০ রোহিঙ্গাকে আটক করে পুলিশ। ২৫ মার্চ টেকনাফের বাহারছড়া উপকূল থেকে ৫৪ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুকে আটক করা হয়।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করে উখিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের আশ্রয় দিলেও এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করছেন রোহিঙ্গারা। ক্যাম্প কেন্দ্রিক কার্যক্রম এবং তল্লাশি চৌকি বসানো দরকার।
এ বিষয়ে ৮-এপিবিএন এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরান হোসেন জানান, ক্যাম্পের কিছু কিছু স্থানে কাঁটাতার নষ্ট হয়ে গেছে। সেই ফাঁক দিয়ে রোহিঙ্গারা বেরিয়ে যাচ্ছেন। এসব কাঁটাতার সংস্কারের জন্য এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।