লাশ কাটা হয় ভোঁতা যন্ত্রপাতি দিয়ে
২ হাজার ৬৩৬ দশমিক ৫৮ বর্গকিলোমিটার আয়াতনের হবিগঞ্জে প্রায় ২১ লাখ মানুষের বসবাস। এতগুলো মানুষের চিকিৎসার শেষ আশ্রয়স্থল ২৫০ শয্যার হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা হাসপাতাল। এ হাসপাতালের অধীনেই আছে জেলার একমাত্র লাশ কাঁটা ঘর বা মর্গ।
জেলার ৯টি উপজেলার কোনো না কোনো এলাকা থেকে প্রতিদিনই এ মর্গে এক অথবা একাধিক লাশ আসে ময়নাতদন্তের জন্য। এরপরই মূলত শুরু হয় বিড়ম্বনা। আধুনিক হাসপাতালের এ মর্গে আধুনিকতার ছিটেফোঁটাও নেই। ফ্যান, বাতি কিংবা ফ্রিজিং ব্যবস্থার পাশাপাশি লাশ কাটাছেঁড়া করার অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতিঅ নেই। মান্ধাতা আমলের ভোঁতা ছুরি-চাকু দিয়েই চলছে ময়নাতদন্তের কাজ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ফ্রিজিংসহ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা না থাকায় একদিন মর্গে কোনো লাশ পড়ে থাকলেই ছড়ায় দুর্গন্ধ। দূষিত হয় আশপাশের এলাকার পরিবেশ। একই সঙ্গে দেখা দেয় লাশের আলামত নষ্টের শঙ্কা।
.png)
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিকেল ৪টার পর কোনো লাশ নিয়ে এলে এখানে ময়নাতদন্ত করা হয় না। পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় বন্ধ থাকে কাটাছেঁড়া। ফলে বাধ্য হয়েই কোনো কোনো লাশ দুইদিন ফেলে রাখতে হয়।
মর্গটির প্রধান ডোম ছাবু মিয়া ও তার সহযোগী তাজুল ইসলাম মারা যাওয়ার পর থেকেই ডোমশূন্য হয়ে পড়ে মর্গটি। যদিও ছাবু মিয়ার ছেলে জিতু মিয়া ও তার সহযোগী রিপন মিয়া অতি কষ্টে কাজটি চালিয়ে যাচ্ছেন। দিনের পর দিন কাজ করলেও সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না তারা। লাশ কাটার পর স্বজনদের কাছ থেকে ৫০০-১০০০ টাকা পেলে তা দিয়েই সংসার চালাতে হচ্ছে তাদের। এ অবস্থায় মর্গের সঙ্গে তাদেরও মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।
ডোম জিতু মিয়া বলেন, বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে আমিই এখানে কাজ করছি। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে আমাদের বেতন-ভাতা দেওয়া হয় না। এ কারণে লাশের সঙ্গে আসা স্বজনরা যা দেয় তাই দিয়ে সংসার চালাতে হয়।
তিনি আরো বলেন, বর্তমানে সব কিছু উন্নত হচ্ছে। কিন্তু এ মর্গের দিকে নজর নেই কারো। ফ্যান, চাকু, বাতির স্বল্পতার পাশাপাশি নেই পানি সরবরাহের ব্যবস্থা। বিশেষ করে ফ্রিজিং ব্যবস্থা না থাকায় ২-৩ দিন লাশ রাখা হলেই বাতাসে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। মর্গটির দিকে কর্তাব্যক্তিদের বিশেষ নজর দেওয়ার অনুরোধ করছি।
হবিগঞ্জ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালের আরএমও ডা. মো. মমিন উদ্দিনও অকপটে স্বীকার করেন সব সমস্যা। তিনি বলেন, আমাদের মর্গের আধুনিক যন্ত্রপাতি, সুযোগ সুবিধা নেই। ফ্রিজিংসহ সব সমস্যার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তপক্ষকে জানানো হয়েছে।