প্রতিবছর ঈদে মহাসড়কের এ অংশ পার হতে দীর্ঘ সময় যানজটে ভুগতে হয় যাত্রীদের। এবারের ঈদে এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান ছাড়াও বড়দারোগার হাটের ওজন স্কেল, মহাসড়কের পাশে থাকা কয়েকটি সিমেন্ট কারখানার গেট, বাড়বকুণ্ড বাজার থেকে মান্দারীটোলা রাস্তার মাথা, পৌর সদরের বাসস্ট্যান্ডে সড়কে বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানোসহ আটটি পয়েন্ট নিয়ে রয়ে যাচ্ছে শঙ্কা।
শঙ্কা থাকলেও যাত্রীদের ভোগান্তি দূর করতে এবার নতুন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মহাসড়কের পাশে থাকা এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কনটেইনার ডিপোর গাড়ি সরিয়ে নিতে ও দাঁড় না করাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ নির্দেশ বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে থাকবে পুলিশ।
.png)
যাত্রী ও পথচারীদের অভিমত, চট্টগ্রামের লাইফলাইন খ্যাত মহাসড়কের এ অংশে সড়কের পাশ দখল করে রাখা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের গাড়ি, কনটেইনার ডিপোর মালবাহী ট্রাক, লরির এলোমেলোভাবে দাঁড়িয়ে থাকা, ট্রাফিক আইন অমান্য করে যত্রতত্র দাঁড়িয়ে যাত্রী উঠানো-নামানো, সড়কের পাশ দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট, অবৈধ গাড়ির স্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন কারণে প্রতিনিয়ত যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। যা ঈদযাত্রায় আরো প্রকট আকার ধারণ করবে।
এদিকে, গত রোববার ঈদযাত্রায় যানজট নিরসনের লক্ষ্যে জেলার এসপি রশিদুল হকের কার্যালয়ে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পুলিশ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সীতাকুণ্ডের এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাইলে সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ঈদযাত্রায় মহাসড়ক যানজট মুক্ত রাখতে বৈঠকে উপস্থিত কারখানা প্রতিনিধিদের মহাসড়কে গাড়ি দাঁড় না করানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিল্প-কারখানা ও কনটেইনার ডিপোর গাড়িগুলো সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ঈদের আগে ও পরের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে উপস্থিত কারখানা প্রতিনিধিরা মহাসড়কের ওপর থাকা গাড়িগুলো সরিয়ে নেয়ার পাশাপাশি দাঁড় না করানোর প্রতিশ্রুতি দেন।
বারআউলিয়া হাইওয়ে থানার ওসি কাজী নাজমুল হক বলেন, মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশে যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশের উদ্যোগে মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি রয়েলগেট এলাকায় অস্থায়ী ক্যাম্প ও ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হচ্ছে। সেখানে মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি যানজট নিরসনে ২৪ ঘণ্টা দুটি মোবাইল টিম নিয়োজিত থাকবে। এছাড়া ১২ ঘণ্টা নিয়োজিত থাকবে মোটরসাইকেল টিম। নির্বিঘ্নে ঈদযাত্রা নিশ্চিতে মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া হাইওয়ে পুলিশের কর্মকাণ্ড ঈদের পর সাত দিন পর্যন্ত চলবে।
তিনি আরো বলেন, ঈদে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এ সময় ওভারটেকিং প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে ট্রাফিক আইন ভাঙেন চালকরা। ফলে যানজট সৃষ্টি হয়। তবে এবারের ঈদ যাত্রায় মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশকে যানজট মুক্ত রাখতে ও মানুষের ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা হবে।