ঢাকা,  সোমবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ভুয়া পরিচয়ে সিজার, সন্তানের মুখ দেখা হলো না মায়ের

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২৩:১৯, ৬ মে ২০২২
ভুয়া পরিচয়ে সিজার, সন্তানের মুখ দেখা হলো না মায়ের
হাসপাতালের সামনে স্বজনরা

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় ভুল চিকিৎসায় এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হাসপাতাল ভাঙচুর করেছেন প্রসূতির স্বজনরা।

শুক্রবার দুপুরে উপজেলার ঘড়িসার ইউনিয়নের ঘড়িসার বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতের নাম মাহিনুর বেগম। ২৮ বছর বয়সী মাহিনুর নড়িয়া উপজেলার ডিঙ্গামানিক ইউনিয়নের পণ্ডিতসার গ্রামের ইতালি প্রবাসী উজ্জ্বল মীরমালতের স্ত্রী।

Advertisement

স্বজনরা জানান, ১০ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন মাহিনুর। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে প্রসব ব্যথা উঠলে মাহিনুরকে নড়িয়া উপজেলার ঘড়িসারে অবস্থিত মা-শিশু ও ডায়াবেটিক হাসপাতালে নিয়ে যান বাড়ির লোকজন। হাসপাতালে মাহিনুরের পরিবারের লোকজনের কাছে মনোয়ার হোসেন নামের এক চিকিৎসক নিজেকে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দেন। ওই চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই মাহিনুরের অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন। দুপুরে অস্ত্রোপচারের পর মাহিনুর কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। পরে মাহিনুরের অবস্থার অবনতি হলে তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসক।

নিহত মাহিনুরের চাচাতো শাশুড়ি আয়শা বেগম বলেন, সন্তান জন্মের পর মাহিনুর ভালো আছে বলে আমাদের জানান ওই চিকিৎসক। পরে অবস্থার অবনতি ও রক্তক্ষরণ শুরু হয়। অবস্থার অবনতি হলে মাহিনুরকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠান চিকিৎসক। সেখানে নেয়ার পথে মাহিনুর মারা যান।

এদিকে, মৃত্যুর খবর জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে হাসপাতালে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন মাহিনুরের স্বজনরা। এ সময় হাসপাতালের চিকিৎসক কৌশলে সরে পড়েন।

মাহিনুরের এক স্বজন বলেন, সার্জন না হয়েও ভুয়া পরিচয় দিয়ে ওই চিকিৎসক মাহিনুরের সিজার করেন। ভুল চিকিৎসায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে মাহিনুর মারা যান। সময়মতো সদর হাসপাতালে নিতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম।

ঘটনার পর চিকিৎসক মনোয়ার হোসেন পালিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

হাসপাতালের ব্যবস্থাপক সামছুল আরিফিন মনজুর বলেন, দুপুরে আমাদের হাসপাতালে এক প্রসূতির সিজার হয়েছে। সব নিয়মনীতি অনুসরণ করেই অস্ত্রোপচার করানো হয়। ওই প্রসূতি নাকি স্ট্রোক করেছেন বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন।

নড়িয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবীর হোসেন বলেন, ওই হাসপাতালে প্রসূতির সিজার করা হয়। সিজারের পর তিনি মারা যান। পরে উত্তেজিত হয়ে হাসপাতাল ভাঙচুর করেন প্রসূতির স্বজনরা। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!