ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

এক মাস পর বোনের খোঁজ পেয়েছেন ঠিকই, তবে বেওয়ারিশ লাশের কবরে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:৫২, ৩ জুন ২০২২
এক মাস পর বোনের খোঁজ পেয়েছেন ঠিকই, তবে বেওয়ারিশ লাশের কবরে
কবর জিয়ারত শেষে ফিরে যান দুই ভাই

মাসখানেক আগে নিখোঁজ হন রাজিয়া বেগম। দীর্ঘদিন ধরে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি স্বজনরা। অবশেষে নিখোঁজের এক মাস পর সন্ধান মেলে তার। তবে জীবিত নয়, পেয়েছেন মৃত। তাও বেওয়ারিশ লাশের কবরে।

শুক্রবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মেড্ডায় বেওয়ারিশ লাশের কবরস্থানে মেলে রাজিয়ার সন্ধান। খাঁটিহাতা হাইওয়ে পুলিশের মাধ্যমে খবর পেয়ে তার পরিচয় শনাক্ত করেন স্বজনরা। এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তারা।

৪০ বছর বয়সী রাজিয়া কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার মিঠামইন ইউনিয়নের উড়িয়ন্দ গ্রামের শের আলীর মেয়ে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেওয়ারিশ লাশের দাফনকারী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একমাত্র সংগঠন বাতিঘরের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আজহার উদ্দিন।

Advertisement

রাজিয়ার ছোট ভাই জাকারিয়া জানান, গত মাসে কাজের জন্য নরসিংদীর রায়পুরায় এক আত্মীয়ের বাসায় এসে নিখোঁজ হয়েছিলেন তার বোন। এরপর থেকে অনেক খুঁজেও তাকে পাওয়া যায়নি। রাজিয়া কাজের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া গেছেন বলে আত্মীয়ের মাধ্যমে জানতে পারেন। খবর পেয়ে তারা সরাইল উপজেলার খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানা পুলিশের কাছে যান।

শুক্রবার দুপুরে তাদের জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান হাইওয়ে থানার এসআই নজরুল ইসলাম। সেখানে বাতিঘরের প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার আজহার উদ্দিনের সঙ্গে দেখা করিয়ে দেন। পরে ছবি দেখে দুই ভাই তাদের হারিয়ে যাওয়া বোনকে শনাক্ত করেন।

দুই ভাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বেওয়ারিশ লাশের কবরস্থানে এসে নিখোঁজ হওয়া বোনের কবরটি দেখেন। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। পরে কবর জিয়ারত শেষে তারা ফিরে যান। বোনের পরিচয় শনাক্ত ও সুন্দরভাবে দাফনকাজ সম্পন্ন করার জন্য বাতিঘরকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান দুই ভাই।

বেওয়ারিশ লাশের দাফন করা সংগঠন বাতিঘরের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আজহার উদ্দিন বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যত পরিচয়বিহীন লাশ উদ্ধার হয়ে হাসপাতাল মর্গে আসে তাদের দাফনকাজ আমরা করি। এ পর্যন্ত আমরা অর্ধশতাধিক পরিচয়হীন লাশ দাফন করেছি।

পুলিশ জানায়, ১ জুন রাতে বিজয়নগরের ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে একটি পরিবহনের চাপায় অজ্ঞাতপরিচয় এক নারী নিহত হন। ওই নারী সরাইল বিশ্বরোড থেকে বিজয়নগরের চান্দুরায় বিভিন্ন জায়গায় কাজ করতেন। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের পর ওই নারীর আত্মীয়-স্বজনের খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরে দাফনকাজ করেন বাতিঘরের সদস্যরা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!