ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা করে পালাল স্বামী, সতিন ও সৎ ছেলে

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:৫১, ৬ জুন ২০২২
গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা করে পালাল স্বামী, সতিন ও সৎ ছেলে
সখিপুর থানা, শরীয়তপুর

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে নুরজাহান বেগম নামে এক গৃহবধূকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পায়ের রগ কেটে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী, সতিন ও সৎ ছেলেদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আরো দুইজন আহত হয়েছেন।

রোববার রাত ১০টার দিকে ঐ উপজেলার সখিপুর ইউনিয়নের নইমউদ্দিন সরদারকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রাত সাড়ে ৩টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেয়ার পথে নুরজাহানের মৃত্যু হয়।

নিহত নুজাহান বেগম ঐ গ্রামের ফজলুর রহমান ব্যাপারীর প্রথম স্ত্রী। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে আছে। সোমবার দুপুরে নুরজাহানের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।

Advertisement

স্থানীয় সূত্র জানায়, ফজলুর রহমান ব্যাপারী দ্বিতীয় স্ত্রী মোরশেদা বেগমকে নিয়ে একই উপজেলার কাঁচিকাটা এলাকায় থাকতেন। আর প্রথম স্ত্রী নুরজাহান বেগম থাকতেন নইমউদ্দিন সরদারকান্দি গ্রামে। ফজলুর রহমান সম্প্রতি দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে নইমউদ্দিন সরদারকান্দিতে আসেন। তখন থেকেই সংসারে কলহ শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার রাত ১০টার দিকে স্বামী, সতিন ও সৎ ছেলেদের সঙ্গে ঝগড়া লয় নুরজাহানের। এক পর্যায়ে স্বামী ফজলুর রহমান, সতিন মোরশেদা, সৎ ছেলে সাগর ব্যাপারী ও বিল্লাল ব্যাপারী মিলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নুরজাহানকে কুপিয়ে-পিটিয়ে আহত করে ও পায়ের রগ কেটে দেয়। ঐ সময় নুরজাহানকে উদ্ধারে এগিয়ে এলে তার ছেলে মামুন ও মেয়ে জেসমিনকেও কুপিয়ে আহত করে তারা।

আরো জানা গেছে, গুরুতর আহত অবস্থায় নুরজাহানকে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে শরীয়তপুর সরকারি হাসপাতালে পাঠান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক ঢাকায় নেয়ার পথে ফেরিতে নুরজাহানের মৃত্যু হয়।

নিহতের মেয়ে জেসমিন আক্তার বলেন, বাবা, সৎ মা, সৎ ভাইয়েরা মিলে আমার মাকে হত্যা করেছে। আমি তাদের ফাঁসি চাই।

সখিপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ওবায়দুল হক বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী, দ্বিতীয় স্ত্রী ও সৎ ছেলেরা নুরজাহানকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে। পরে ঢাকায় নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ঘটনার পর থেকেই আসামিরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!