নিহত রাকিব উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের দৌলতপুর পূর্বপাড়া এলাকার সিরাজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি প্রাণ কোম্পানীতে গাড়ি চালানোর কাজ করতেন।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৭ জুন) ভোরে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, একই এলাকার মৃত শাহজাহান মিয়ার ছেলে সাইফুল, তার মা নাসিমা ও খালা তাসলিমা বেগম।
.png)
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, রাকিবের ছোট বোন ও সাইফুলের খালাতো বোন পাশের একটি মাদরাসায় পড়েন। রোববার (৫ জুন) মাদরাসা থেকে ফেরার পথে তারা দুষ্টুমি করে একে অপরের গায়ে চুলকানি পাতা (চুচরাপাতা) লাগিয়ে দেন। পরে সাইফুল তার মা ও খালাকে নিয়ে অভিযোগ করতে রাকিবদের বাড়িতে যান। এ নিয়ে দুই পরিবারের মাঝে কথা কাটাকাটি হয়।
এরই জেরে সোমবার রাত ১০টায় সাইফুল আবার তার মা ও খালাকে নিয়ে রাকিবদের দোকানে আসেন। এ সময় তারা দোকানে বসে থাকা রাকিবের বাবা সিরাজ উদ্দিনের সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন। হইচই শুনে রাকিব ও তার চাচাতো বোন পাপিয়া বাড়ি থেকে দৌড়ে দোকানে আসেন। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সাইফুল সিরাজ মিয়াকে মারতে গেলে রাকিব ও পাপিয়া তাকে বাধা দেন।
পরে সাইফুল তার হাতে থাকা ছুরি দিয়ে পাপিয়াকে আঘাত করেন। এতে রাকিব বাধা দিতে গেলে সাইফুল তার বুকের বামপাশে ছুরিকাঘাত করেন। পরে তাকে আটকাতে গেলে তিনি সিরাজ মিয়াকেও ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান।
এরপর স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে মনোহরদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক রাকিব ও তার বাবাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) প্রেরণ করেন। কিন্তু সেখানে নেওয়ার পথেই রাকিব মারা যান। সিরাজ মিয়া ঢামেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং পাপিয়া মনোহরদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে আছেন।
এ ঘটনার পরে ওই দিন রাতেই রাকিবের মা রেজু খাঁ বাদী হয়ে মনোহরদী থানায় তিনজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। পরে মঙ্গলবার ভোরে সাইফুলের আশেপাশের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সাইফুল, তার মা ও খালাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
মনোহরদী থানার ওসি জহিরুল আলম বলেন, লাশের সুরতাল করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আর গ্রেফতারকৃতদের দুপুরে আদালতে পাঠানো হবে।