ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

রাজশাহীর আম যাবে ইউরোপ-মধ্যপ্রাচ্যে

রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:৩৪, ১০ জুন ২০২২
রাজশাহীর আম যাবে ইউরোপ-মধ্যপ্রাচ্যে
রাজশাহীর আম যাবে ইউরোপ-মধ্যপ্রাচ্যে-ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

রাজশাহীর আম এবার রফতানি হবে ইউরোপসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। বাঘা উপজেলার ২২০ জন চাষির ৩০০ মেট্রিক টন আম রফতানি হবে বলে জানিয়েছে কৃষি অধিদফতর।

বিভিন্ন দেশে আম পাঠানোর জন্য কৃষি বিভাগের মাধ্যমে তাদের চুক্তি হয়।  চুক্তি অনুযায়ী রফতানি উপযোগী করে আম চাষ করেছেন তারা। কয়েকদিনের মধ্যে আম নামাতে শুরু করবেন এই চাষিরা।

বাঘা উপজেলার আমচাষি শফিকুল ইসলাম জানান, গত কয়েক বছর ধরেই তিনি রফতানিকারকদের মাধ্যমে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে আম পাঠাচ্ছেন। এবারো ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে রফতানি উপযোগী করে আমচাষ করেছেন।

Advertisement

আনোয়ারুল জানান, এনজেল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ এন হোসেন সজলের মাধ্যমে তিনি সুইডেনে আম পাঠিয়েছেন। গত শুক্রবার আম নামানোর পরই ঢাকায় পাঠানো হয়। রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান এনজেল গ্রুপ বিমানে করে আম সুইডেন পাঠিয়েছে।

তিনি বলেন, আমার ব্যাগিং করা আম খুবই ফ্রেশ। আমের কাছে কীটনাশক তো দূরের কথা; একটা পিঁপড়াও যেতে পারে না। তাই হট কেকের মতো আমার আম শেষ হয়ে যাচ্ছে। তবে চাষি ও রফতানিকারকদের উদ্যোগেই বিমানে আম পাঠানো হয় ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চুক্তিবদ্ধ চাষিরা লক্ষণভোগ বা লখনা, হিমসাগর বা ক্ষিরসাপাত এবং ল্যাংড়া আম বিদেশে রফতানি উপযোগী করে উৎপাদন করেন। জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৫ মে থেকে লক্ষণভোগ বা লখনা ও হিমসাগর ২৮ মে থেকে নামানো শুরু হয়েছে। ৬ জুন থেকে নামবে ল্যাংড়া। কয়েকদিন পর এসব আম বিদেশে পাঠানো শুরু হবে। রাজশাহীর বাঘা উপজেলা থেকে এ বছর ৩০০ মেট্রিক টন আম রফতানি হলে তিন কোটি টাকা পাবেন চাষিরা।

তবে কৃষি বিভাগের মাধ্যমে রফতানিকারকের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হননি এমন একজন চাষি এরই মধ্যে ৫০০ কেজি গোপালভোগ আম রফতানিকারকদের মাধ্যমে সুইডেন পাঠিয়েছেন। এই চাষির নাম আনোয়ারুল ইসলাম। তার বাড়ি নগরীর জিন্নানগর এলাকায়। তিনি রাজশাহী এগ্রো ফুড সোসাইটির সভাপতি। প্রতি বছরই তিনি তার বাগানের ফ্রুট ব্যাগিং করা আম বিদেশে পাঠিয়ে থাকেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানিয়েছে, বাঘা উপজেলার প্রায় ২২০ জন চাষি ৩০০ মেট্রিক টন আম দেবেন বলে হটেক্স ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে রফতানিকারকদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন।

বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, চুক্তিবদ্ধ চাষিদের আমরা প্রশিক্ষণ দেই। তাদের বাগানের সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা শেখানো হয়। ব্যাগিং পদ্ধতিতে ফ্রেশ আম উৎপাদনের বিষয়টিও তাদের শেখানো হয়। এই কাজটি শুধু বাঘা উপজেলায় হয়।

তিনি বলেন, রফতানি করতে হলে রফতানিকারকদের আম ঢাকায় সেন্ট্রাল প্যাকেজিং হাউজে নিতে হয়। সেখানে আমের মান যাচাই করে গুণগত প্যাকেটিং হয় যাতে আম বেশি সময় ভালো থাকে। তারপরই তা রফতানির জন্য ছাড়পত্র পায়।

রাজশাহীতে ১৮ হাজার ৫১৫ হেক্টর জমিতে আমবাগান আছে। এসব বাগানে ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৭৬ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হতে পারে। আর এই আম নিয়ে রাজশাহীর অর্থনীতিতে যোগ হতে পারে ৯০০ কোটি টাকা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্যান) উত্তম কুমার কবিরাজ বলেন, গত বছর চাষিরা রফতানি করা আমে কেজিপ্রতি দাম পেয়েছিলেন ৯০ টাকা। এবার ফলন একটু কম বলে দাম বেশি। এখনই বাজারে ভালো আম ৬০ টাকা কেজি। সুতরাং, সব চাষির আম যদি রফতানি নাও হয়, সেক্ষেত্রেও তারা ভালো দাম পাবেন। কারণ, ব্যাগিং করা ফ্রেশ আমের দাম এমনিতেই বেশি হয়। তবে এবার কোভিডের সংক্রমণ না থাকায় বেশি পরিমাণে আম রফতানি করা যাবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!