ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

বান্দরবানে পাঁচদিনে ডায়রিয়ায় ১০ মৃত্যু

বান্দরবান প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০০:০১, ১৬ জুন ২০২২
বান্দরবানে পাঁচদিনে ডায়রিয়ায় ১০ মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

বান্দরবানে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বুধবার (১৫ জুন) আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলাটিতে ডায়রিয়ায় গত পাঁচদিনে ১০ জনের মৃত্যু হলো। এর মধ্যে গত শনিবার (১১ জুন) মারা যান চারজন। 

বান্দরবান সিভিল সার্জন ডা. নীহারঞ্জন নন্দী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি বলেন, বর্ষার শুরুতে বান্দরবানের দুর্গম এলাকাগুলোতে অসচেতনতা ও সুপেয় পানির অভাবে সাধারণত ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা যায়। এবার থানচি উপজেলার দুর্গম রেমাক্রী ইউনিয়নের কয়েকটি পাড়ায় ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী গত পাঁচদিনে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে থানচিতে ৯ ও আলীকদমে একজনের মৃত্যু হয়েছে। 

মৃতরা হলেন- থানচির রেমাক্রী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের মেন থাং পাড়ার আমেন ম্রোর ছেলে মেনথাং ম্রো (৪৯), নারিচা পাড়ার বাসিন্দা মে তৈ ম্রোর ছেলে লংঞী ম্রো (৪৫) সিং চং পাড়ার বাসিন্দা মেন রো ম্রোর ছেলে প্রেন ময় ম্রো (১১), সংওয়ে ম্রো (৫০), প্রেণময় ম্রো (৪০), ইয়ং নং পাড়ার ক্রাইয়ং ম্রো (৬০), ক্রায়ক ম্রো (১৮), রয়ং ম্রো (৪৮) ও নারিচ্যা পাড়ার ক্রেলি ম্রো (৩৬)। এছাড়া গত ১১ জুন আলীকদমে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে তার পরিচয় জানা যায়নি। 

আক্রান্ত এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মেডিকেল দল কাজ করছে এবং পর্যাপ্ত ওষুধ পাঠানো হয়েছে বলে জানান সিভিল সার্জন। বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাবে এ ডায়রিয়া বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্ষার প্রথম পানি পাহাড়ের বিভিন্ন জীবাণু বহন করে নদী বা ঝিরিতে মিশে তাদের ব্যবহারের পানির উৎসগুলো দূষিত হচ্ছে। এ দূষিত পানি পান ও ব্যবহার করায় ওই এলাকার বাসিন্দারা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। দুর্গম এলাকা হওয়ায় ওষুধ ও চিকিৎসাসেবার অভাবে রোগিরা মারা যাচ্ছেন। 

থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. ওয়াহিদুজ্জামান মুরাদ বলেন, রেমাক্রী এলাকায় সুপেয় পানির তীব্র সংকটের কারণে বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা অপরিশোধিত পানি পান করছে। যার কারণে ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে অনেকে। ওইসব এলাকায় ওষুধ ও স্যালাইন পাঠানো হয়েছে এবং ১০ জনের একটি মেডিকেল টিম ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। এছাড়া ওই এলাকায় দুই-একদিনের মধ্যে ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপনের পরিকল্পনা চলছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/AN
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!