ব্যস্ততা থাকছে না মাওয়ায়
স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালু হওয়ার বাকি আর মাত্র ৪ দিন। সেতু চালু হলে পাল্টে যাবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার পদ্মা নদীর তীরবর্তী অঞ্চলের চিত্র। থাকবে না কোলাহল আর ব্যস্ততা। কমে যাবে লঞ্চ, স্পিডবোট ও ফেরি চলাচল, বন্ধ হয়ে যাবে নদীর পাড়ের বাহারি খাবারের দোকান ও রেস্টুরেন্ট। এসব কারণেই আর দেখা যাবে না মাওয়া তথা মাওয়া ঘাটের চিরচেনা সেই ব্যস্ততার চিত্র।
প্রমত্তা পদ্মার পাড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা আর বিড়ম্বনার অবসান ঘটতে যাচ্ছে অচিরেই। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে পদ্মাসেতু। এরই মধ্যে সেতুর সব কাজ শেষ, উদ্বোধন প্রস্তুতিতেও দেওয়া হচ্ছে তুলির শেষ আঁচড়। উৎসবের মাধ্যমেই চালু হতে যাচ্ছে কোটি মানুষের স্বপ্নের পদ্মাসেতু।

এদিকে, পদ্মাসেতুকে ঘিরে মাওয়া ঘাট এলাকায় তৈরি হতে যাচ্ছে ইকোপার্ক। ঘাটের বাস-ট্রাকের টার্মিনালকে ইকোপার্কের স্থান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
পদ্মাসেতুর কারণে মাওয়া ঘাটে যে পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে- এ বিষয়ে কয়েকজন যাত্রী ও হকার-ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেছেন ডেইলি বাংলাদেশ-এর এ প্রতিবেদক। তারাও একবাক্যে স্বীকার করলেন।
ফরিদপুরের আয়নাল হক জানান, পদ্মাসেতু চালু হলে দুঃখ-কষ্ট আর থাকবে না। কত আত্মীয়-স্বজন হারিয়েছি, শেষ দেখাও দেখতে পারিনি। এসব বিড়ম্বনা আর কষ্ট থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

ভোগান্তির কথা জানালেন হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, বৈরী আবহাওয়া ও যানজটের কারণে সময়মতো লঞ্চ-ফেরি না পেয়ে কত সময় যে ঘাটে নষ্ট হয়েছে আমাদের। পদ্মাসেতু চালু হলে আর ঝামেলা থাকবে না।
মাওয়া ঘাটের হকাল-ব্যবসায়ীরা বলেন, সারাদেশের মানুষের মতো আমরাও পদ্মাসেতু চালুর স্বপ্ন দেখেছেন। অবশেষে সেই স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে- এতে আমরা অনেক খুশি। কিন্তু সেতু চালু হওয়ার পর ঘাট এলাকার এই চিরচেনা ব্যস্ততা আর থাকবে না। গাড়ি চলাচল অনেক কমে আসবে- এতে ঘাট সংলগ্ন রেস্টুরেন্টসহ অন্যান্য ব্যবসায়ী ও হকারদের আয় কমে যাবে। এ চিন্তা করে অনেকেই পেশা পরিবর্তন করেছেন। কেউ কেউ অন্য কোথাও চলে গেছেন।