চট্টগ্রাম রেলস্টেশনেও ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড়
ঈদের বাকি আর দু’দিন। প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ কাটাতে শেষ মুহূর্তেও চট্টগ্রাম ছাড়ছে মানুষ। সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার সকাল থেকেই চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে দেখা গেছে মানুষের উপচেপড়া ভিড়।
কেউ অগ্রিম টিকিট কেটে, কেউ বা আবার স্ট্যান্ডিং টিকিট সংগ্রহ করে জায়গা না পেয়ে ট্রেনের ছাদে উঠেও ফিরে যাচ্ছেন বাড়ি।
এদিকে, এবারের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেল সংশ্লিষ্টরা। শুক্রবার সকাল থেকে যথাসময়ে চট্টগ্রাম ছেড়েছে চারটি ট্রেন। যদিও অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে বেগ পোহাতে হচ্ছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে। ময়মনসিংহগামী বিজয় এক্সপ্রেস সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম ছাড়ার কথা থাকলেও এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত ট্রেনটি রেলস্টশনে এসে পৌঁছায়নি।
.png)
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্টেশন ম্যানেজার রতন কুমার চৌধুরী বলেন, বিজয় এক্সপ্রেস ময়মনসিংহ হয়ে সকালে ডকইয়াডে এসে পৌঁছেছে। সেখানে পুরো ট্রেনটি আন্ডার চেকিং করে ছেড়ে আসতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হয়। সাময়িক কষ্ট হলেও যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে এটি আমাদের করতে হচ্ছে। এছাড়া সকাল ৭টায় সুবর্ণ এক্সপ্রেস, ৭টা ২০ মিনিটে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ও ৭টা ৪০ মিনিটে সাগরিকা এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম ছেড়ে গেছে।
পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনে ঢাকায় যাচ্ছিলেন ব্যাংক কর্মকর্তা শরীফ উদ্দিন। তিনি বলেন, পরিবার নিয়ে বাড়ি যাচ্ছি, এটি সবচেয়ে আনন্দের। অনলাইনে আগেই টিকিট সংগ্রহ করেছিলাম। যথাসময়ে স্টেশনেও চলে আসি। ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ের আতঙ্ক কাজ করছিল মনে। তবে তেমনটা হয়নি। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে ট্রেন ছেড়ে যাবে।
পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনে মাকে নিয়ে সিলেটের উদ্দেশ্যে পাড়ি দিচ্ছিলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাসুমা আক্তার। তিনি বলেন, দুই ঈদে বাড়ি যাওয়া হয়। ঈদ এলে ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করা নিয়ে আলাদা একটা ঝামেলা পোহাতে হয়। তবে এবার কোনো ঝামেলা ছাড়াই অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করতে পেরেছি। বাড়ি যাচ্ছি দেখে আমি যেমন খুশি, মাও খুশি।
ছেলেকে নিয়ে সাগরিকা এক্সপ্রেস ট্রেনে চাঁদপুর যাচ্ছিলেন বৃদ্ধ হামিদ মিয়া। তিনি বলেন, বাড়ি চাঁদপুর হলেও ছেলের কর্মস্থল চট্টগ্রামে হওয়ায় আমি এখানে থাকি। প্রতি ঈদে বাবা-ছেলে মিলে ট্রেনে বাড়ি যাই। এবারও সেভাবেই যাচ্ছি। খুশি লাগছে।
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গত ৫ জুলাই থেকে ১০ আন্তঃনগরসহ ১৬টি ট্রেন চট্টগ্রাম রেলস্টেশন ছেড়ে গেছে। এসব ট্রেনে ১০ হাজারের বেশি যাত্রী চট্টগ্রাম ছাড়ার কথা ছিল। যদিও প্রতিটি ট্রেনে নির্ধারিত আসনের চেয়ে বেশি যাত্রী দেখা গেছে।