ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

মালদ্বীপের মডেল-কন্যা রাউধা হত্যা মামলা পুনঃতদন্তের নির্দেশ

রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:২৬, ২০ জুলাই ২০২২
মালদ্বীপের মডেল-কন্যা রাউধা হত্যা মামলা পুনঃতদন্তের নির্দেশ
ছবিতে রাউধা আথিফ

মালদ্বীপের মডেল-কন্যা রাউধা আথিফ। ২০১৭ সালের ২৯ মার্চ রহস্যজনকভাবে নিজ কক্ষে মারা যান তিনি। পরে তার বাবা এ নিয়ে আদালতে একটি মামলাও দায়ের করেন। তবে সর্বশেষ ২০১৯ সালের ২৯ মে আদালতে এ মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পিবিআই।

ওই প্রতিবেদনে হত্যাকাণ্ডে আসামি সিরাত পারভীনের সম্পৃক্ততার বিষয়ে কোনো তথ্য প্রমাণ মেলেনি বলে উল্লেখ করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। এরপরই মামলাটি নথিজাত করে আদালত।

পরবর্তীকে ২০২০ সালের ২ জানুয়ারি মহানগর দায়রা ও জজ আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে মামলার রিভিশন আবেদন করেন রাউধার বাবা। এ বছরের ১৮ এপ্রিল আদালত রিভিশনের আবেদন মঞ্জুর করেন। ওই দিনই নিম্ন আদালতে বাদীর নারাজি আবেদন দাখিলের অনুমতি দেয় আদালত। মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) দুপুরে রাজশাহীর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এর বিচারক মহিদুর রহমান শুনানি শেষে রাউধা হত্যা মামলার ফের তদন্তের নির্দেশ প্রদান করেন।

Advertisement

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাউধা হত্যা মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী আসলাম সরকার। তিনি বলেন, শুনানি শেষে আদালত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে দিয়ে মামলাটি পুনঃতদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। শুনানির আগে আদালত মামলার বাদী ডা. মোহাম্মদ আতিফের জবানবন্দি নেন। এরপর ২৯ জুন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এ বাদীর নারাজি আবেদন দাখিল করা হয়। পরবর্তীতে মঙ্গলবার নারাজি আবেদনের শুনানি হয়।  

আইনজীবী আসলাম সরকার বলেন, রাউধা আতিফ মালদ্বীপের মালের বাসিন্দা। তার বাবা মোহাম্মদ আতিফ পেশায় চিকিৎসক।  রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি। রাউধা প্রতিষ্ঠানটির এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি মডেলিংও করতেন তিনি।

২০১৬ সালের ১৪ জানুয়ারি ওই কক্ষে ওঠেন রাউধা। ২০১৭ সালের ২৯ মার্চ ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ ছাত্রীনিবাসের দ্বিতীয় তলার ২০৯ নম্বর কক্ষ থেকে রাউধা আথিফের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ নিয়ে ওই দিনই হাসপাতালের সচিব আব্দুল আজিজ রিয়াজ থানায় অপমৃত্যু মামলা করেন। দুই দফা মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়।

পুলিশ, সিআইডি ও পিবিআইসহ বিভিন্ন সংস্থার পাঁচবারের তদন্তে এই মডেল কন্যার আত্মহত্যার বিষয়টি উঠে আসে। প্রেমিকের সঙ্গে বিচ্ছেদের কারণেই আত্মহত্যা করেছেন রাউধা। তার শেষ গৃহীত কল ছিল বয়ফ্রেন্ড শাহী ঘনির। তার পাঠানো শেষ মেসেজ ছিল ‘ইউ কিলড মি। আই ফিল ডেড। আমার আর কিছুই থাকল না’।

কিন্তু শুরু থেকেই এসব প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেন রাউধা আথিফের চিকিৎসক বাবা মোহাম্মদ আতিফ। তার দাবি, রাউধা আত্মহত্যা করেননি। সহপাঠী ও ভারতের কাশ্মিরের বাসিন্দা সিরাত পারভীন মাহমুদ তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। সিরাত পারভীনকে আসামি করে মামলাও করেন তিনি। শেষে রাউধার বাবা ডা. মোহাম্মদ আতিফ আইনজীবীর মাধ্যমে মামলাটি পুনঃতদন্তের আবেদন জানান।

ডা. আতিফের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন রাউধা। কিন্তু প্রতিবারই তিনি ন্যায়বিচার পাননি। সর্বশেষ তার আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত নথিজাত হওয়া মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করলেন। এবার তদন্তে মেয়ে হত্যার বিচার পাবার আশা তার।

বিখ্যাত সাময়িকী ‘ভোগ ইন্ডিয়া’ ২০১৬ সালের অক্টোবরে তাদের নবম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সংখ্যা প্রকাশ করে। তাতে প্রচ্ছদ প্রতিবেদন হয় এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মডেলদের নিয়ে। ‘বৈচিত্র্যের সৌন্দর্য উদযাপন’ (সেলিব্রেটিং বিউটি ইন ডাইভার্সিটি) শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে স্থান পেয়েছিলেন মালদ্বীপের মডেল রাউধা আথিফ।

ভোগ ইন্ডিয়ার ওই প্রতিবেদনের জন্য দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাউধা বলেছিলেন, মডেলিং আমার কাছে পেশা নয়, শখই বেশি। পড়াশোনা শেষ করে চিকিৎসক হয়ে মানুষকে সাহায্য করা আমার কাছে সব সময়ের জন্য স্বপ্ন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!