হত্যার পর পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন ৩ বছর
চট্টগ্রামের রাউজানে অভিযান চালিয়ে মো. আবুল কালাম ওরফে আবু নামে হত্যা মামলার এক পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
সোমবার রাতে উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের মিয়ার ঘাটা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেন র্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) নুরুল আবছার।
গ্রেফতার আবুল কালাম একই উপজেলার হারপাড়া এলাকার মো. নুরুল আলমের ছেলে। ঘটনার পর থেকে তিন বছর ধরে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন তিনি।
.png)
র্যাব ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নুরুল আলমের সঙ্গে চলাচলের পথ নিয়ে বিরোধ ছিল হত্যাকারীদের। এর জেরে ২০১৮ সালের ৭ জুন নুরুল আলমের ঘরে হামলা ও ভাংচুর চালিয়ে দুই লাখ টাকা ও ১০ ভরি সোনা নিয়ে যায় একদল সন্ত্রাসী। ওই ঘটনার পর নুরুল আলম রাউজান থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে যাওয়ার পথে কয়েকজন তার পথরোধ করে আক্রমণ ও তাদের বিরুদ্ধে মামলা করলে পরিবারের সদস্যদের মেরে লাশ গুম করার হুমকি দেন। এরপর থেকে দীর্ঘদিন প্রাণের ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে থাকেন নুরুল আলম। একপর্যায়ে অবস্থা কিছুটা স্বাভাবিক হলে পুনরায় বাড়ি ফিরে যান।
২০১৯ সালের ৫ জানুয়ারি সকালে উরকিরচর বাজারে যান নুরুল আলম। সেখানে কয়েকজন পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তার ওপর হামলা ও এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন। একপর্যায়ে সেখান থেকে তুলে নিয়ে মৃত্যু নিশ্চিতের পর লাশ গুম করে ফেলেন। পরদিন ৬ জানুয়ারি হাটহাজারী উপজেলার চন্দ্রাবিল এলাকা থেকে নুরুল আলমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় রাউজান থানায় ১৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৫-৬ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন নুরুল আলমের স্ত্রী।
র্যাবের সিনিয়র সহকারী পরিচালক নুরুল আবছার বলেন, হত্যাকাণ্ডের পরপরই আসামিরা গা ঢাকা দেয়। কিন্তু তাদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রাখে র্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার রাতে রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের মিয়ার ঘাটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. আবুল কালাম ওরফে আবুকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাবের এ কর্মকর্তা আরো বলেন, ঘটনার পর থেকে তিন বছর ধরে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন আবুল কালাম। তিনি মামলাটির এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি। গ্রেফতারেরর পর জিজ্ঞাসাবাদে বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নিতে তাকে রাউজান থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।