বগুড়ায় ‘সন্ত্রাসী হামলা’ চালিয়ে বাড়ি ভাঙচুর, ২ জনকে গণপিটুনি
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় ‘সন্ত্রাসী হামলা’ চালিয়ে নির্মাণাধীন এক বাড়ির ইটের দেয়াল ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় উভয়পক্ষের অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।
শনিবার দুপুরে ওই উপজেলার সুজাবাদ উত্তরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় হামলাকারী দুই যুবককে আটক করে গণপিটুনি দেয় গ্রামবাসী। পরে পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে।
ওই দুই যুবক হলেন- বাবু ও রমজান। তারা শাজাহানপুর উপজেলা গণ্ডগ্রাম এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে তারা শজিমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
.png)
জানা গেছে, চলাচলের রাস্তাকে কেন্দ্র করে ওই গ্রামের প্রবাসী মোমেনা বেগমের পরিবারের সঙ্গে গোলাম রব্বানীর দ্বন্দ্ব চলে আসছে। এ দ্বন্দ্বের সূত্রপাত বছর দেড়েক আগে। শনিবার নির্মাণাধীন বাড়ির সীমানা নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই বাড়ির পেছনের বাসিন্দা গোলাম রব্বানী। তার চাহিদা অনুযায়ী চলাচলের রাস্তা না পাওয়ায় ‘সন্ত্রাসী বাহিনী’ ভাড়া করে ভাঙচুর করান মোমেনা বেগমে বাড়ি। এমন অবস্থা দেখে স্থানীয়রা ক্ষিপ্ত হন। তারা একত্র হয়ে হামলাকারীদের ধাওয়া করেন এবং দুজন হামলাকারীকে আটক ও মারধর করেন।
নির্মাণাধীন বাড়ির মালিক মোমেনা প্রবাসী। ঘটনাস্থলে গিয়ে কথা হয় তার ছেলে ইসমাইল হোসেন মুন্নার সঙ্গে।
তিনি জানান, বাড়ি নির্মাণের নিয়ম অনুযায়ী রাস্তার জায়গা ছাড়া হয়েছে। এরপরই বাড়ি নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। চলাচলের রাস্তার জন্য তিন ফুট জায়গা ছেড়েই নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। কারণ ওই রাস্তার দুই পাশেই তার স্বজনদের বসবাস। তারা দুই পরিবার মিলে তিন ফুট জায়গা ছেড়েছেন শুধুমাত্র প্রতিবেশী রব্বানীদের চলাচলের জন্য। কিন্তু গোলাম রব্বানী আরো বেশি জায়গা ছাড়তে বলেন। এর চাইতে বেশি জায়গা ছাড়া সম্ভব নয়।
তিনি আরো জানান, দেড় বছর ধরে তাদের এ দ্বন্দ্ব চলে আসছে। এ বিষয়ে বগুড়া পৌরসভা কার্যালয়ে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যেই গোলাম রব্বানী সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে এসে তার বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। একইসঙ্গে তাকে এবং তার খালা হেলেনা বেগমকে মারধর করা হয়েছে।
সুজাবাদ উত্তরপাড়া গ্রামে গোলাম রব্বানী বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। কথা হয় তার মেয়ে মেঘলার আকতারের সঙ্গে।
তিনি জানান, তাদের বাড়ির সামনে বাড়ি নির্মাণ করছে মুন্নার পরিবার। নির্মাণের আগে যেটুকু জায়গা ছেড়েছে, তা তাদের চলাচলের জন্য যথেষ্ট নয়। কারণ ওই জায়গা দিয়ে ভ্যান চলাচল করতে পারবে না। তার বাবা কৃষি কাজ করেন। ফসল ঘরে তোলার জন্য অন্তত ভ্যান চলাচলের জায়গা ফাঁকা রেখে বাড়ি নির্মাণ করতে হবে। চলাচলের জন্য ছয় ফুট জায়গা লাগবে তাদের। এ বিষয়ে বগুড়া পৌরসভা কার্যালয়ে অভিযোগ দেওয়া আছে।
তবে এ সময় ‘সন্ত্রাসী বাহিনী’ ভাড়া করে হামলা চালানোর অভিযোগের বিষয়টি এড়িয়ে যান মেঘলা আকতার। এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে সাত থেকে আটটি মোটরসাইকেল ও দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা করে ৩০ জনের মত সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গ্রামে প্রবেশ করেন। তারা গ্রামে এসেই মুন্নাদের বাড়ি ভাঙচুর করা শুরু করেন। ওই সময় মুন্নাসহ তার খালা হেলেনাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে গ্রামবাসী একত্র হয়ে সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করেন।
শাজাহানপুর কৈগাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির এসআই হাসান হাফিজার বলেন, বাড়ি নির্মাণ ও চলাচলের রাস্তাকে কেন্দ্র করে হামলা এবং মারধরের ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারী বহিরাগতদের মধ্যে কয়েকজনের নাম জানা গেছে। দুই পক্ষই থানায় অভিযোগ করবে বলে জানিয়েছে। ওই গ্রামের পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক আছে।