মঙ্গলবার সকালে টাঙ্গাইল র্যাব-১২ সিপিসি-৩ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মোহাম্মদ আনিছুজ্জামান এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১, ৯ এবং র্যাব-১২ সিপিসি-৩ এর একটি দল যৌথ অভিযান পরিচালনা করে হবিগঞ্জের রাজাপুর এলাকা থেকে ঘাতক স্ত্রী হৃদয় বানুকে গ্রেফতার করে।
.png)
গ্রেফতারকৃত হৃদয় বানু জানান, তার স্বামী আবু সাঈদ সেন্টুসহ তিনি সৌদি আরবের প্রবাসী ছিলেন। সৌদি থাকাকালে তাদের মধ্যে সম্পর্ক হয়। পরে তারা বিয়ে করেন। বিয়ের কয়েক মাস পর হৃদয় বানু গর্ভবতী হন। পরবর্তীতে হৃদয় বানুকে তার স্বামীর বড় ভাই খোরশেদের কাছে গাজীপুরের টঙ্গীতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তিনি দেশে আসার এক মাস পরেই আবু সাঈদ দেশে ফিরে আসেন। সাঈদ আসার পরও হৃদয় বানুকে বড় ভাইয়ের বাসায় রাখেন। সেখানে তাদের কন্যাসন্তান রেশমীর জন্ম হয়। গত দুই মাস আগে টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকা ধোপাপাড়া এলাকায় একটি টিনশেড বাসা ভাড়া নেন তারা। এরপর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মাঝে-মধ্যেই ঝগড়া হতে থাকে।
এরমধ্যে আবু সাঈদ বিদেশ যাওয়ার জন্য টিকিট কাটতে ২৫ হাজার টাকা লাগবে বলে স্ত্রীকে জানান এবং তাকে সেই টাকা জোগাড় করতে বলেন। হৃদয় বানু ঐদিন রাতে ২৫ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে এনে স্বামীকে দেন। এরপর স্বামী টাকা নিয়ে চলে যেতে চাইলে তিনি বাধা দেন। ঐ রাতে থেকে যেতে বলেন। এ নিয়ে দুইজনের ঝগড়া হয় এবং একপর্যায়ে স্বামী হৃদয় বানুকে মারপিট করেন। পরে ভোর ৪টার দিকে হৃদয় বানু একটি চাকু দিয়ে ঘুমন্ত স্বামী আবু সাঈদকে খুন করে পালিয়ে যান।
র্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টাঙ্গাইল সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হবে।
গত ২৮ জুলাই টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকা ধোপাপাড়া এলাকায় আবু সাঈদের লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তার দ্বিতীয় স্ত্রী হৃদয় বানু পলাতক ছিলেন। পরে আবু সাঈদের প্রথম স্ত্রী নাহিদা খানম বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর মডেল থানায় মামলা করেন।