জট খোলেনি মৃত্যুর রহস্যের, শিক্ষক দম্পতির দাফন সম্পন্ন
গাজীপুর মহানগরের গাছা থানার দক্ষিণ খাইলকুর বগারটেক এলাকায় প্রাইভেটকারের ভেতর থেকে শিক্ষক দম্পতির দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তবে এ ঘটনায় শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি। এখনো তাদের মৃত্যুর রহস্যও উদ্ঘাটন করা যায়নি।
গাজীপুর মহানগরের গাছা থানার ওসি নন্দলাল চৌধুরী বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে শিক্ষক দম্পতির মরদেহ স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। রাতেই গাজীপুরে তাদের জানাজা শেষ করে ময়মনসিংহের ত্রিশালে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে দাফন করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না পাওয়ায় এখন পর্যন্ত মামলা হয়নি। এছাড়াও তাদের মৃত্যুর কোনো ক্লু পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও ভিসেরা রিপোর্ট পাওয়ার পর তাদের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। তবে এরই মধ্যে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এদিকে শিক্ষক দম্পতির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে নমুনা রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। তাদের মরদেহের ফুসফুস ও কিডনিতে জমাট রক্ত পাওয়া গেছে।

শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান মো. শাফি মোহাইমেন জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে মরদেহ দুটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। এ সময় দুইজনের ফুসফুস ও কিডনিতে প্রায় একই রকম লক্ষণ পাওয়া গেছে। তাদের প্রত্যেকের ফুসফুস ও কিডনিতে জমাট রক্ত পাওয়া গেছে। এটা সাধারণত খাবারে বিষক্রিয়া কিংবা অন্য কোনো কারণেও হতে পারে। তাই তাদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য নমুনা ঢাকার সিআইডির ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার ভোরে টঙ্গীর শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম জিয়াউর রহমান ও তার স্ত্রী আমজাদ আলী সরকার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোসাম্মৎ মাহমুদা আক্তার জলির মরদেহ গাজীপুর মহানগরের গাছার দক্ষিণ খাইলকুরের বগারটেক এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা তাদের প্রাইভেটকারের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়।