বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি, ১৯ জেলে উদ্ধার
উত্তাল বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে ১৯ জেলেসহ এফবি মায়ের দোয়া ও এফবি আল্লাহর দান নামে দুটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে গেছে। দুই ট্রলারে থাকা ১৯ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করে স্থানীয় জেলেরা। তবে সব জেলেরাই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
শুক্রবার (১৯আগস্ট) রাত ১২ টার দিকে মায়ের দোয়া ও এফবি আল্লাহর দান সকাল ১০টার দিকে গভীর বঙ্গোপসাগরে এ ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটে। ট্রলার দুটির মালিক হলেন মজনু মিয়া ও জাফর সিকদার। তাদের বাড়ি তালতলী উপজেলার নিদ্রা এলাকায়। উদ্ধার হওয়া ১৯ জেলের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
শুক্রবার(১৯ আগস্ট) দুপুর আড়াই টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডুবে যাওয়া এফবি আল্লাহর দান ট্রলারে মালিক মজনু মিয়া।
.png)
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারটি দেড় কোটি টাকায় তৈরি করা হয়েছে। ১৩ জেলেসহ বুধবার দুপুরে তালতলীর নিদ্রা উপকূল থেকে মাছ ধরার জন্য সাগরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। তেল, খাদ্য সামগ্রীসহ প্রায় দেড় লাখ টাকার মালামাল তোলা হয়। কিন্তু গভীর বঙ্গোপসাগরের পৌঁছাতেই খবর পাওয়া যায় সাগরে ৩ নং সতর্ক সংকেত। সাগরও উত্তাল হতে থাকে। পরে সবার সিদ্ধান্ত হয় ট্রলার নিয়ে উপকূলে ফেরার। পরে রাত ১২টার দিকে ফেরার পতে ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি উল্টে যায়। ট্রলারটি উল্টে ১৩ জেলে পানিতে পড়ে যায়। এর পর টানা ১০ ঘন্টা ঔ জেলেরা লাইভ জ্যাকেট নিয়ে সাগরে ভাসতে থাকে। পরে স্থানীয় জেলেরা ২টি ট্রলার নিয়ে এগিয়ে এসে সবাইকে উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া জেলেরা খুব অসুস্থ রয়েছে।
এদিকে সকাল ১০ টার দিকে গভীর বঙ্গোপসাগর থেকে উপকূলে ফেরার পথে ঝড়ের কবলে পড়ে এফবি আল্লাহর দান ট্রলারটি। আকস্মিক এ ঝড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। ডুবে যাওয়া ট্রলারের জেলেদের সাগরে ভাসতে দেখে পাশবর্তী একটি ট্রলার ঐ ৬ জেলেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। এতে ঐ ট্রলার মালিকের প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এরই মধ্যে অন্য জেলেরা ট্রলার উদ্ধারের কাজ শুরু করেছে।
এফবি আল্লাহর দান ট্রলারের মালিক মজনু মিয়া বলেন, জাল, তেল ও অনন্য মালামালসহ তিন দিন আগে সাগরে রওনা হয়ে যায়। ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায় এছাড়া এফবি মায়ের দোয়া নামে আরো একটি ট্রলার রাত ১২টার দিকে ডুবে যায়। সেটার প্রায় দেড় কোটি টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে।
তিনি আরো বলেন উদ্ধার হওয়া সব জেলে এখন পাথরঘাটায় আছে। সবাই অসুস্থ হয়ে আছেন। তাদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য ব্যবস্থা করছি।
ফকিরহাটের সকিনা জোনের কোস্ট গার্ডের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা কমান্ডার মো. সুলতান আলী বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না । খোঁজখবর নিয়ে দেখছি।