২৩ বছরের মিজানুর রহমান রনি বগুড়ার শাজাহানপু উপজেলার আমরুল ইউনিয়নের রাধানগর পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম মোকছেদ আলী।
ভাইরাল হওয়ার নেশায় বাড়ির উঠানে কবর খুঁড়ে রাত যাপন করেন তিনি। খাবারে পাশাপাশি সঙ্গে নেন ১৫ ভোল্টের একটি বাল্ব, ভিডিও ক্যামেরা, কম্বল-বালিশ ও মুঠোফোন। শুধু তা-ই নয়, গরম থেকে বাঁচতে সেই কবরে বাইরে প্লাস্টিকের মোটা পাইপের মুখে দেন বৈদ্যুতিক পাখায় সংযোগ।
.png)
সোমবার বেলা ১১ টার দিকে রনিকে কবর থেকে উদ্ধার করে অপরাধ সংগঠন নিবারনকল্পে তাকে গ্রেফতার করা হয়। একই সঙ্গে তার আপন ভাই ২৮ বছরের আবু হাসানকেও গ্রেফতার করা হয়। এর আগে, রোববার দিবাগত রাত ১১ টার দিকে কবরে প্রবেশ করেন রনি।
রনির বরাত দিয়ে শাজাহানপুর থানার এসআই শামীম হোসেন জানান, কবরে ১২ ঘণ্টা রনির খুব ভালোই কেটেছে। তার ইচ্ছা ছিল কবরে ২৪ ঘণ্টা কাটানো। কবরে থাকাকালীন কয়েক দফায় তার ভাইয়ের সঙ্গে ভিডিও ফোনে কথাও বলেছেন তিনি। মাটির ভেতরে পরিবেশ খুবই শীতল।
এসআই শামীম আরো জানান, রনি কবরে থাকাকালীন কিছু সময়ের জন্য ঘুমিয়েও পড়েন। রনির ভাষ্য অনুযায়ী ধারণা করা হচ্ছে আধা ঘণ্টা সময় কবরে ঘুমিয়ে ছিলেন তিনি। রনি একজন ইউটিউবার। রাতে তাদের বাড়ির আঙিনায় পূর্ব-পশ্চিম দিক করে কবর খুঁড়েন তিনি। সেই কবরে প্রবেশ করার পর ওপর থেকে তার ভাই আবু হাসান সেখানে কাঠের দরজা লাগিয়ে দেন। এবং সেই দরজার ওপরে মাটি চাপা দেন। একই সঙ্গে দুটি পাইপ সেই কবরে ঢুকে দেওয়া হয়। কবরের ওপরে একটি পাইপের মুখে বৈদ্যুতিক পাখার সংযোগও দেন তিনি। এছাড়াও বৈদ্যুতিক বাল্ব জ্বালান ভেতরে। পাইপ দিয়েই কবরের ভেতরে দেওয়া হয় বৈদ্যুতিক সংযোগ। এরপরে ইউটিউবার রনির ভাই কবরের বাইরে থেকে ভিডিও করতে থাকেন। আর রনি থাকেন ভেতরে।
তিনি আরো জানান, রনি যদি কবরে আরো সময় থাকতেন তাহলে তিনি মারাও যেতে পারতেন। এ কারণে তাকে ও তার ভাইকে অপরাধ সংগঠন নিবারণকল্পে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়। ইউটিউবে এক ভিডিও দেখে কবরে ২৪ ঘণ্টা কাটিয়ে ভাইরাল হওয়ার ইচ্ছা থেকেই এমন করেন রনি।
বগুড়ার কোর্ট ইন্সপেক্টর সুব্রত ব্যানার্জি জানান, ইউটিউবার রনি ও তার ভাইকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।