মঙ্গলবার রেলওয়ের চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দেয়। এ কমিটির প্রধান অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (রেলপথ) আরমান হোসেন। অন্য সদস্যরা হলেন- অতিরিক্ত প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা জাকির হোসেন, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মোস্তফা জাকির হোসেন এবং অতিরিক্ত প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী তারেক মো. শামস তুষার।
এর আগে, ১৬ আগস্ট রেলওয়ের বিভাগীয় পর্যায়ের পাঁচ সদস্যের অন্য একটি তদন্ত কমিটি এ দুর্ঘটনার জন্য গেটকিপার ও মাইক্রোবাস চালককে দায়ী করে। ঐ কমিটির প্রধান ছিলেন রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা আনসার আলী।
.png)
মঙ্গলবার বিকেলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এ তদন্ত কমিটিও দুর্ঘটনার জন্য মাইক্রোবাস চালক এবং গেটকিপারকে দায়ী করেছে। গেটকিপারকে চাকরিচ্যুত করতে তদন্ত প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে কারাগারে আছেন। আর তদন্ত প্রতিবেদনে দায়ী করা মাইক্রোবাস চালক গোলাম মোস্তফা নিরু দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
লেভেল ক্রসিং এলাকায় ট্রেন দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য কমটির ১১টি সুপারিশের মধ্যে রয়েছে, প্রতিটি লেভেল ক্রসিংয়ে স্বয়ংক্রিয় অ্যালার্মিং বা সাইরেনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। নির্ধারিত দূরত্বে ট্রেন আসলে সাইরেন বেজে উঠবে। প্রতিটি লেভেল ক্রসিংয়ে স্বয়ংক্রিয় গেট রাখতে হবে, যা কেউ চাইলেও তুলতে পারবে না।
এছাড়া লেভেল ক্রসিংয়ে দায়িত্বরত গেটম্যানদের খাকি পোশাক দেওয়া, লেভেল ক্রসিংগুলোয় নিরাপত্তার জন্য সিসি ক্যামেরা, গেটম্যানদের ঘরে ল্যান্ডফোনের ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়াসহ মোট ১১টি সুপারিশ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই দুপুর দেড়টার দিকে খৈয়াছড়া ঝর্ণা দেখে ফেরার পথে লেভেল ক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই মাইক্রোবাসের ১১ যাত্রী নিহত হন। এ ঘটনায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো দুইজন নিহত হন।