কথিত আইনজীবী সহকারী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে গত শনিবার দুপুরে ঝালকাঠি প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী বিমান দাস। উপস্থিত ছিলেন- নজরুলের প্রতারণার শিকার আশিষ দত্ত, সোহাগ হাওলাদার, মাহতাব জাবেদ শামীম ও খোকন হাওলাদার।
.png)
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, একাধিক চাঁদাবাজি ও মাদক মামলার আসামি এবং প্রতারণার অভিযোগে ঝালকাঠি আইনজীবী সহকারী সমিতি থেকে বহিষ্কৃত মো. নজরুল ইসলাম ঝালকাঠি শহরের কালিবাড়ি সড়কের একটি ভবনে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ঋণ প্রদান করে আসছিলেন। দেশ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি নামে ঋণদান অফিস খুলে নলছিটির সুবিদপুর গ্রামের সামশুল হক মহুরির ছেলে নজরুল এ প্রতারণা করেন।
করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা নজরুলের সমিতি থেকে ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতেন। যারা নজরুলের কাছ থেকে ঋণ নিতেন তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ব্ল্যাঙ্ক চেক রাখা হতো। কাউকে ঋণের বিপরীতে রাখা চেকের নম্বর উল্লেখ করে অঙ্গীকারনামা দেওয়া হতো, আবার কাউকে দেয়া হতো না। সম্পূর্ণ ঋণ পরিশোধ করার পরও অনেকের বিরুদ্ধে কয়েক লাখ টাকার মামলা এবং লিগ্যাল নোটিশ দিয়ে হয়রানির একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে নজরুলের বিরুদ্ধে।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক খন্দকার নজরুলের কাছ থেকে ঋণ নেন এক লাখ টাকা। এরমধ্যে ৭৬ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। তার কাছে বকেয়া থাকে ২৪ হাজার টাকা। রাজ্জাকের ব্ল্যাঙ্ক চেকে ৫ লাখ টাকা বসিয়ে আদালতে এনআই অ্যাক্টে মামলা করেন নজরুল। একইভাবে কমল শীলের কাছে বকেয়া ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা কিন্তু মামলা করেছে ৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকার।
বাহের রোডের আবু সালেহ আকন ঋণ নেয় ৩৫ হাজার টাকা তার নামে লিগ্যাল নোটিশ করা হয়েছে তিন লাখ টাকার। আশিষ দত্তের কাছে বকেয়া আছে মাত্র ৬ হাজার টাকা তাকে লিগ্যাল নোটিশ করা হয়েছে তিন লাখ টাকার। মাহতাব জাবেদ শামীমের কাছে কোনো পাওনা না থাকা সত্ত্বেও তাকে নোটিশ করা হয়েছে ৮ লাখ টাকার।
সংবাদ সম্মেলনে আরো অভিযোগ করা হয়, নজরুল এক সময় নলছিটি ভূমি অফিসে দালালি করতেন। পরবর্তীতে ঝালকাঠি আইনজীবী সমিতিতে মহুরির কাজ শুরু করেন। আইনজীবী সহকারী সমিতিতে দাখিল পরীক্ষার জাল সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার অভিযোগে ২০১২ সালে তাকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর হঠাৎ বরিশালের আঞ্চলিক পত্রিকার সাংবাদিক বনে যান এবং সাংবাদিকতার নামে চাঁদাবাজি শুরু করেন। তার নামে একাধিক চাঁদাবাজি মামলা দায়ের হয় এবং গ্রেফতার হয়ে হাজতবাস করেন। ২০১৮ সালে ডিবি পুলিশের হাতে ফেনসিডিলসহ গ্রেফতার হন। প্রতারণার ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ নজরুল দেশ সমবায় সমিতি খুলে মানুষকে প্রতারণার জালে ফেলে হয়রানি করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ব্যবসায়ীরা আরো অভিযোগ করেন, নজরুলের দৃশ্যমান কোনো আয় নেই। তিনি লাখ লাখ টাকার মামলা করেন কিভাবে। নজরুল বলেছেন- লিগ্যাল নোটিশ এবং এন.আই. অ্যাক্টের মামলায় কাজ না হলে তার দ্বিতীয় স্ত্রী জেসমিনকে বাদী বানিয়ে ধর্ষণচেষ্টার মামলা দিয়ে হলেও তিনি টাকা আদায় করবেন। অনেকের কাছ থেকে এভাবে টাকাও আদায় করেছেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
এ ব্যাপারে নজরুল ইসলাম বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেককে টাকা ধার দিয়েছি। সময়মত তারা টাকা পরিশোধ না করায় কারো বিরুদ্ধে আমি মামলা করেছি, কারো বিরুদ্ধে নোটিশ করেছি। আমার কাছ থেকে নেয়া টাকা আত্মসাৎ করার জন্য আমার বিরুদ্ধে কিছু ব্যক্তি মিথ্যা অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছে। আমার কোনো দ্বিতীয় স্ত্রী নেই। আর কাউকে ধর্ষণচেষ্টা মামলার হুমকিও দিই নাই।