ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

আফিয়া হত্যাকাণ্ডে আরেক নারী গ্রেফতার

সিলেট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:২৫, ২৫ আগস্ট ২০২২
আফিয়া হত্যাকাণ্ডে আরেক নারী গ্রেফতার
গ্রেফতারকৃত নারী

সিলেটে আফিয়া হত্যাকাণ্ডে মাজেদা খাতুন মুন্নী নামে এক নারীকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। মুন্নি হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং থানার সারংপুর গ্রামের আব্দুল গনির মেয়ে। বৃহস্পতিবার ভোরে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে এমনটি জানিয়েছে র‍্যাব-৯। র‍্যাবের দাবি, পাওনা টাকার জেরে আফিয়াকে খুন করেছে মুন্নী। মুন্নী আফিয়ার বাসায় সাবলেট হিসেবে থাকতো। হত্যাকাণ্ডের পর বাসা তালা মেরে বাড়িতে চলে যায় মুন্নী। 

এদিকে, আফিয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইসমাঈল নিয়াজ খান নামে তার কথিত স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

Advertisement

এর আগে গত মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে সিলেট নগরীর উত্তর  বালুচর এলাকার ফোকাস-৩৬৪ নম্বর পাঁচতলা বাসা সিকান্দর মহলের নিচতলার একটি ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে আফিয়া বেগম সামিহা নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করেন র‍্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার এএসপি আহসান-আল-আলিম। তিনি জানান, আফিয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিলেটের শাহপরাণ থানায় গত ২৪ আগস্ট ভিকটিমের মা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দকরেন। এ মামলা সূত্র ধরে রহস্য উদঘাটনে র‍্যাব-৯-ও গোয়েন্দা কার্যক্রম শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে আফিয়া হত্যাকাণ্ডে মোছা. মাজেদা খাতুন মুন্নির সম্পৃক্ততার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়।

পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাব-৯ আভিযান চালিয়ে মুন্নিকে বৃহস্পতিবার ভোরে তার বাড়ি হবিগঞ্জের বানিয়াচং থেকে গ্রেফতার করে।

র‍্যাব কর্মকর্তা আহসান জানান, আফিয়ার সঙ্গে টাকা-পয়সার লেনদেন নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিলো মুন্নির। আফিয়ার বাসায় মুন্নি সাবলেট থাকতেন। কিন্তু বেশিরভাগ দিন তিনি বাসায় অবস্থান করতেন না। আফিয়ার কাছে মুন্নি বিভিন্ন সময় টাকা-পয়সা গচ্ছিত রাখতেন। একপর্যায়ে মুন্নির পাওনা টাকা আফিয়া দিতে অস্বীকার করেন। ফলে আফিয়ার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মুন্নি।

ঘটনার দুইদিন আগে ১৮ আগস্ট আফিয়ার বাসায় আসে মুন্নি। ঘটনার দিন (২০ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে আফিয়া ও মুন্নির মধ্যে পাওনা টাকা নিয়ে ঝগড়া হয়। পরে রাত ১২টার দিকে রান্নাঘর থেকে শিল (মসলা গুড়ো করার শিল) নিয়ে এসে আফিয়ার মাথার বাম পাশে সজোরে পরপর ২টি আঘাত করেন মুন্নি। আঘাতের ফলে তৎক্ষণাৎ আফিয়া বিছানায় লুটিয়ে পড়েন। পরে ২১ আগস্ট ভোরে আনুমানিক ৬টার দিকে মুন্নি ওই বাসা থেকে বের হয়ে একটি রিকশা ভাড়া করে নিয়ে আসেন এবং বাসার দরজা বাইরে থেকে তালা মেরে তিনি তার মালামাল ও আফিয়ার মোবাইল ফোন নিয়ে বানিয়াচংয়ে নিজ বাড়িতে চলে যান।

এ ঘটনায় আশ্চর্যজনকভাবে বাসায় আটকাপড়া আফিয়ার শিশুকন্যা বেঁচে যায়। পরে তাকে পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। গ্রেফতারকৃত মাজেদাকে শাহপরাণ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এর আগে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের কথিত স্বামী ইসমাইল নিয়াজ খানকে গ্রেফতার করে শাহপরান থানা পুলিশ।

ওসি মো. আনিসুর রহমান জানান, ওই নারীর স্বামী ওমান প্রবাসী বলে শোনা গেলেও আসলে ইসমাইল প্রবাসে ছিলেন না। আফিয়ার সঙ্গে তার যে বিয়ে, সেটার কাগজপত্রও নেই। মৌলভী ডেকে নাকি তাদের বিয়ে পড়ানো হয়েছিল। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। এছাড়া আশরাফ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে আফিয়া বেগমের আগে আরেকটি বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু ওই সংসার বেশিদিন টিকেনি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!