ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

স্বামী বিদেশ, স্ত্রীর অধিকার পেতে ৫ দিন ধরে অনশনে তরুণী

জামালপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৩:০৯, ১ সেপ্টেম্বর ২০২২
স্বামী বিদেশ, স্ত্রীর অধিকার পেতে ৫ দিন ধরে অনশনে তরুণী
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

জামালপুরের ইসলামপুরে স্ত্রীর অধিকার পেতে মোছা. রেহেনা আক্তার (২০) নামে এক নারী স্বামীর বাড়িতে স্ত্রীর অধিকার আদায়ে অবস্থান নিয়ে অনশনে বসেছেন।

শনিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর থেকেই উপজেলার চরপুটিমারী ইউনিয়নের ৪নং চর এলাকায় রেহানা আব্দুল মজিদ দফতরীর ছেলে মো. নাজমুল মিয়ার (২৩) বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন। অনশনে বসা ওই নারী শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার বাকাকুড়া গ্রামের হামিদুর রহমানের মেয়ে রেহেনা আক্তার।

এদিকে বাড়িতে অবস্থানের পরপরই রেহেনার সঙ্গে থাকা তার খালাতে বোনকে টেনে হিঁচড়ে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। এ সময় তার থেকে মোবাইল কেড়ে নিয়ে সব প্রমাণাদি ও যোগাযোগের নাম্বার ডিলিট করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শ্বশুর আব্দুল মজিদ দফতরী, রেহেনার মামা শ্বশুর ৪নং চর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক হুমায়ুন কবীর ও তার স্বামীর খালাতো ভাই শাকিলের বিরুদ্ধে।

Advertisement

রেহেনা আক্তার জানান, গত ৭-৮ বছর আগে আমার প্রেমিক নাজমুল তার এলাকায় একটি মামলার আসামি হয়। পরে আমাদের গ্রামে তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে আসেন। সেখান থেকে তার সঙ্গে আমার পরিচয় হয় এবং প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব আসলে নাজমুল আমাকে আশ্বাস দিয়ে বিয়ে ভেঙে দেন। চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি গাজীপুর নোটারী পাবলিক কার্যালয়ে ৩ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে বিয়ে হয়। বিয়ের পরে নাজমুলের সঙ্গে ৫ মাস ঢাকায় গাজীপুরে এক বাসায় সংসার করি। সংসার করা অবস্থায় নাজমুল চাকরির কথা বলে আমার পরিবারের কাছ থেকে মোট আড়াই লাখ টাকা নেন। আমাকে মিথ্যা বলে টাকা নিয়ে বিদেশে চলে যান। আমি তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে না পেয়ে একাধিকবার তার বাড়িতে আসলে আমার শ্বশুর এবং মামা হুমায়ুন মাস্টারসহ এলাকার লোকজন মিমাংসার কথা বলে আমাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। আমি সুরাহা না পেয়ে আবার তার বাড়িতে এসেছি, আমি স্বামীর অধিকার চাই। 

স্থানীয় মাতব্বর গোলাম মোহাম্মদ পারুল বলেন, মেয়েটি আমার কাছে একাধিকবার এসেছে। আমি বারবার মিমাংসা করার চেষ্টা করেছি ছেলের পরিবার থেকে কিন্তু মিমাংসা হয় নাই।

এ বিষয়ে নাজমুলের বাবা আব্দুল মজিদ ও মামা হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

ইসলামপুর ডিক্রিরচর তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এজিএম মাইদুল ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে কিছু জানি না। যদি মেয়েটি অভিযোগ দেয় তবে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
ট্যাগ: জামালপুর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!