রোববার দুপুরে মেহেরপুর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক রিপতি কুমার বিশ্বাস এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- গাংনী উপজেলার নওপাড়া গ্রামের খেদের আলীর ছেলে বাদল হোসেন, ছহির উদ্দীন চৌকিদারের ছেলে আলামিন হোসেন এবং হাসেম আলী। রায় ঘোষণার সময় আদালতে শুধু বাদল হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এই মামলায় দোষী প্রমাণিত না হওয়ায় ১০ জনকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০০৫ সালের ৫ জানুয়ারি রাতে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রসহ একদল সন্ত্রাসী নওপাড়া গ্রামের বাহাজেল আলীর বাড়িতে হানা দেন। এ সময় বাহাজেল আলী ও তার আত্মীয় সদর উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের আব্দুল ওহাবের ছেলে তৌহিদুল ইসলাম ওরফে তৌহিদ গল্প করছিলেন। সন্ত্রাসীদের দেখে তৌহিদ দৌড়ে ঘরের মধ্যে পালিয়ে যান। সন্ত্রাসীরা তৌহিদকে ধরে আনার জন্য ঘরের দিকে যেতে চাইলে তাদের বাধা দেন বাহাজেল। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাহাজেল আলীকে রামদা দিয়ে কানের উপর কোপ দিলে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে সন্ত্রাসীরা তৌহিদকে ঘর থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে গুলি করে ও গলা কেটে হত্যা করেন। এর পরের দিন সকালে লাশ উদ্ধার করে গাংনী থানা পুলিশ। এছাড়া বাহাজেলকে উদ্ধার করে প্রথমে গাংনী ও পরে সেখান থেকে কুষ্টিয়া মেডিকেল এবং পরে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
.png)
এ ঘটনায় তৌহিদুলের ভাই আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৫ জনকে আসামি করে গাংনী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। গাংনী থানার তৎকালীন এসআই মেজবাহ উদ্দীন ও আনোয়ার আলম আযাদ ১৩ জনের নামে চার্জশিট প্রদান করেন। মামলায় মোট ১৮ জন সাক্ষ্য প্রদান করেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ছিলেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) কাজী শহিদুল হক এবং আসামিপক্ষের কৌঁসুলি ছিলেন অ্যাডভোকেট একেএম শফিকুল আলম, খন্দকার আব্দুল মতিন ও কামরুল ইসলাম।