দৈনিক ৭০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত রাইড শেয়ার করে আয় হয়। দৈনিক সব খরচ বাদ দিয়ে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত থাকে। মাসে ১৫ হাজার টাকা থেকে ২৪ হাজার টাকা পর্যন্ত জমা হয় । এরমধ্যে সংসারে ছেলে মেয়ের খরচ, নিত্যপণ্যের খরচ, মাসিক ঋণের কিস্তি ও আনুষাঙ্গিক খরচ বাদ দিয়ে তার সঞ্চয় থাকে ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা। এভাবে চলে তার সুখের সংসার।
নুরুল আমিনের মতো সফিক, কালাম, মনির ইব্রাহিমসহ অন্তত শতাধিক যুবকের কর্মসংস্থান এখন ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালানো। তারা প্রত্যেকে যার যার মতো করে সময় দিয়ে আয় করছেন মাসে হাজার হাজার টাকা। তবে কেউ নিয়মিত কেউ অনিয়মিত। অর্থাৎ কেউ আছে অন্য পেশার ফাঁকে ফাঁকে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে আয় করে, আবার কেউ আছে পেশায় এখন ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালানো। তাই তো বলা যায় চরাঞ্চলের যুবকরা আর বেকার নেই। তারা অনেকেই স্বাবলম্বী।
.png)
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, মজুচৌধুরী হাট ঘাটে সারি সারি বিভিন্ন রং বেরৎয়ের মোটরসাইকেল। বসে আছেন শতাধিক যুবক। তারা ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে তাদের জীবন জীবিকা নির্বাহ করে। এদের মধ্যে কেউ আছে ছাত্র, কেউ কৃষক, কেউ জেলে আবার কেউ বেকার যুবক। তবে যে যাই থাকুক না কেন বর্তমানে তাদের নিয়মিত পেশা এখন ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালানো। এসব যযুবকরা এক একজন ৫-৭ বছর করে জড়িত এ পেশায়। তাদের ইনভেস্ট শুধু একটা মোটরসাইকেল। তারা তাদের আয় দিয়ে সুখের সংসার পরিচালনা করছেন। ছেলে মেয়েদের পড়ালেখার খরচ বহন করে।
জানা গেছে, মজুচৌধুরী হাট ঘাট থেকে বেশ কয়েকটি স্টেশন রয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় মাছঘাট, লঞ্চ ঘাট, ফেরি ঘাট হওয়ায় যাত্রীসহ ব্যবসায়ীক জোন এটি। মজুচৌধুরী হাট হয়ে একদিকে রায়পুরের হায়দরগঞ্জসহ বেশ কয়েকটি এলাকা রয়েছে ভাড়ায় মোটরসাইকেল দিয়ে যাতায়াত করে যাত্রীরা। চাঁদপুরের হাজিমারা, কমলনগরের মতিরহাট, জনতা বাজার, রফিকগঞ্জ, চর মার্টিনসহ বেশ কিছু এলাকায় স্টেশন রয়েছে। একই সঙ্গে রামগতির চর আলেকজান্ডারও ভাড়ায় মোটরসাইকেল দিয়ে যাতায়াত করে এখানকার মানুষ। এসব মানুষ ব্যবসায়ীক কাজে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করে। আবার লক্ষ্মীপুর মজুচৌধুরী ঘাট দিয়ে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ যাতায়াত করে। ফলে তারাও লক্ষ্মীপুর থেকে ঘাট পর্যন্ত, আবার ঘাট থেকে লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত মোটরসাইকেলে যাতায়াত করে থাকে।
মোটরসাইকেল চালক ইব্রাহিম জানান, দেড় লাখ টাকা দিয়ে একটি মোটরসাইকেল কিনেছেন এক বছর আগে। এরই মধ্যে গাড়ির টাকা উঠে গেছে তার। সে এখন যত ভাড়া চালায় সেটিই তার লাভবানের অংশ। দৈনিক ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত যাত্রী অনা-নেয়ায় ভাড়ায় হয়। সকালে নাস্তা আর দুপুরে হোটেলে ভাত খেয়ে দৈনিক ৫০০ টাকা করে টিকে তার। এভাবে মাসিক আয় আছে ১৫ হাজার টাকা। তার সংসারে এক ছেলে স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস। তবে ফুয়েলের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেকটাই আয় কমে গেছে বলে জানান তিনি।
একাধিক যাত্রীরা বলছেন, সহজ ও অল্প সময়ে যাতায়াত এই সড়কে একমাত্র বহন মোটরসাইকেল। তাই তারা দ্রুত সময় পার হতে এবং সময়মতো লঞ্চ ও ফেরি পেতে মোটরসাইকেলকে বাহন হিসেবে বেছে নেন। এছাড়া কোথাও কোথাও সড়কের বেহালদশার কারণে বড় কোনো গাড়ি চলে না। ফলে মোটরসাইকেলের বিকল্প কিছু নেই। তাই তারা সহজে এই বাহনে চলাচল করে। ভাড়াও কম। অল্প বাড়ায় অনেক দূর চলে যেতে পারে।
এসব মোটরসাইকেল রাইডারদের এক সংগঠন রয়েছে। তাদের সমন্বয়ক মো. নুরুল আমিন। তিনি বলেন, আমাদের বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে বিশেষ করে আমাদেরর অনেকের গাড়ি লাইসেন্স কিংবা ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। এসব লাইসেন্স করতে গিয়ে হয়রানীর শিকার হয়ে থাকি। ফলে আর করা হয়না। আমরা চাই আমাদের লাইসেন্স করতে যেন কোন হয়রানী না হতে হয় সেদিকে কর্তৃপক্ষকে দৃষ্টি দেয়ার আহবান জানান মো. নুরুল আমিন। এসব বিষয়ে আইন প্রয়োগকারীরাও এসে তাদের লাইসেন্স করতে পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
স্থানীয় চররমনী মোহন ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার মো. মনির হোসেন সজিব জানায়, মজুচৌধুরী হাটে শতাধিক মোটরসাইকেল আছে। যারা ভাড়ায় চালিয়ে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে। তারা এক সময় বেকার ছিল। এরা বিভিন্ন পেশায় ছিল। বিশেষ নদী মাতৃক এলাকায় মাছ শিকার করতো বেশির ভাগ যুবক। বিভিন্ন সময় সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকায় মাছ শিকার থেকে বিরত থাকতে হয়। তাই তারা নদীতে মাছ শিকারে না গিয়ে মোটারসাইকেল চালিয়ে আয় করছে। তারা যেন সুন্দরভাবে নিজেদের দক্ষতা দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে আমরা তাদের পাশে আছি। তবে তাদের লাইসেন্স নিয়ে কিছু সমস্যা আছে। তাদের এই সমস্যার সমাধান হলে আরো বেশি উদ্বুদ্ধ হবে বলে মনে করেন তিনি।
যুবকদের উৎসাহ দিতে তাদের আয় নিশ্চিত করতে আগ্রহী ভাড়ায় চালতি মোটরসাইকেল রাইডারদের ড্রাইভিং ও গাড়ির লাইসেন্স হয়রানী মুক্ত করে দিয়ে তাদের নিরবচ্ছিন্ন আয়ের পথ সুগম করবে কর্তৃপক্ষ। এমনটাই দাবী তাদের।