ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

চট্টগ্রামে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, সতর্ক বন্দর

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৩:৪১, ২৪ অক্টোবর ২০২২
চট্টগ্রামে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, সতর্ক বন্দর
চট্টগ্রামে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, সতর্ক বন্দর

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে চট্টগ্রামে সোমবার সকাল থেকে থেমে থেমে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস।

চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং সোমবার ভোর ৬টার দিকে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরো ঘণীভূত ও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে মঙ্গলবার ভোররাত অথবা সকাল নাগাদ খেপুপাড়ার নিকট দিয়ে বরিশাল-চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হামিদ মিয়া বলেন, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে চট্টগ্রামে বৃষ্টি হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সাগর উত্তাল রয়েছে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর সমূহকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

Advertisement

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্ব্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার আশঙ্কায় ক্ষয়ক্ষতি কমাতে এনসিটি, সিসিটির সব জাহাজ বহিরনোঙরে পাঠিয়ে দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে বন্দর চ্যানেল থেকে সব লাইটার জাহাজও সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এছাড়া বন্দরের পক্ষ থেকে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, আবহাওয়া অধিদফতরের সতর্কতা সংকেত অনুযায়ী বন্দরের নিজস্ব অ্যালার্ট-৩ জারি করা হয়েছে ফলে জাহাজ থেকে পণ্য, কনটেইনার লোড-আনলোড বন্ধ হয়ে গেছে। হ্যান্ডলিং ইক্যুইপমেন্ট নিরাপদে রাখতে প্যাকিং করে রাখা হচ্ছে। বন্দর ভবনে জরুরি সভা চলছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক বলেন, আবহাওয়া অফিস থেকে ৬ নম্বর সংকেত জারির পর অ্যালার্ট-৩ জারির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এরপরই জাহাজ থেকে পণ্য ওঠানো-নামানোর কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। জেটি থেকে জাহাজ সাগরে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে জেটিতে থাকা জাহাজে ব্যাপক আঘাত লাগে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে জাহাজ জেটি থেকে কিছুটা দূরে সাগরে পাঠানো হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!