কবিরাজের একটি কলার দাম ১২০ টাকা
নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে কবিরাজের কলার দামও। এখন ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে একটি কলা। দাম বাড়লেও রোগমুক্তির আশায় খাচ্ছেন অনেকে। যদিও একটি কলা টুকরো করে খেতে হয় চারজনকে। আর একেকটি টুকরোর দাম ৩০ টাকা। কবিরাজের এ কলা খেতে ভিড় করছেন শত শত মানুষ।
কলাচিকিৎসা নিতে প্রতিদিনই চার জেলার মানুষ ছুটে আসছেন নাটোরের লালপুর উপজেলায়। সিত্রাংয়ের প্রভাবে ২৪ অক্টোবর দিনভর বৃষ্টি হলেও লালপুরের কলসনগর গ্রামের ৬০ বছর বয়সী পারুলের বাড়িতে ছিল রোগীদের ভিড়। বৃষ্টি মাথায় নিয়েই মাইক্রোবাস, সিএনজিচালিত রিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনে ছুটে আসেন এসব রোগী।
কলসনগর গ্রামেই ‘হাড়ভাঙা চিকিৎসকের হাট’ গড়ে তুলেছিলেন পারুল। বছরের একদিন কলার সঙ্গে ‘গাছগাছড়া’ দিয়ে চিকিৎসা করেন তিনি। পারুল একই গ্রামের সবিউল্লাহর মেয়ে। তার স্বামীর নাম আবু বকর।
.png)
স্থানীয়রা জানায়, পারুলের স্বামীর বাড়ি লালপুরের গোপালপুর গ্রামে। কয়েক বছর আগে স্বামীর বাড়িতেই ‘কলাচিকিৎসা’ করতেন তিনি। কিন্তু প্রশাসনের কারণে চলে আসেন বাবার বাড়ি কলসনগরে। আর এখানেই তিন বছর ধরে দিচ্ছেন ‘কলাচিকিৎসা’। গোপালপুর ছেড়ে পারুল চলে এলেও একই চিকিৎসা দেন মাইকেল।
কলসনগর আর গোপালপুর গ্রামের প্রায় সব বাড়িতেই ঝুলছে কবিরাজবাড়ির সাইনবোর্ড। গ্রামের দিনমজুররাও ‘চিকিৎসাবিদ্যা’ রপ্ত করে এখন রোগী দেখেন।
কলাচিকিৎসা নিয়ে কথা বললে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ারুজ্জামান বলেন, বিষয়টি শুনেছি। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তবে কলাচিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা বলেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর অমাবস্যার (কালীপূজার দিন) সন্ধ্যা থেকে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত রোগীদের কলাচিকিৎসা দেন কবিরাজ পারুল। পুরোপুরি সুস্থ হতে কলাচিকিৎসা নিতে হয় তিন বছর।
রোগীদের সামাল দিতে বাঁশ দিয়ে বুথ করে দেওয়া হয়েছে পারুলের বাবার বাড়ির সামনে। বুথের ভেতরে দিয়েই মানুষ ঢুকছেন। বুথে জানালাও রয়েছে। আর এ জানালা দিয়েই টাকা নিয়ে রোগীর মুখে কলা তুলে দিচ্ছেন কথিত এ চিকিৎসক। এখানে রাস্তার দুই ধারে পলিথিন টাঙিয়ে অস্থায়ী দোকানও বসেছে। কেউ কেউ শুধু কলাই বিক্রি করছেন। আবার কেউ পালন করছেন স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে এক মাইক্রোবাসে এসেছেন ১৩ জন। এর মধ্যে আনারুল বলেন, গতবার খেয়ে একটু আরাম পেয়েছি। তাই এবারো এসেছি।
কলা খেয়ে লালপুরের ঘাটচিলান গ্রামের ৫৬ বছরের গৌরচন্দ্র বলেন, একটা ‘জিনকলা’ চার ভাগ করে এক ভাগ একজনের মুখে দেওয়া হচ্ছে। এর ভেতরে ‘গাছ’ দেওয়া হয়েছে। এ জিনকলা খেলে সারা জীবন হাঁসের মাংস আর ডিম খাওয়া যাবে না।